জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বেলডাঙায় আক্রান্ত জি ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধি সোমা মাইতি। খবর করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার আমাদের সাংবাদিক। মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় চিত্র সাংবাদিকের। ছবি তুললে বন্ধ করে দেওয়া হয় ক্যামেরা। কেড়ে নেওয়া হয় প্রতিনিধির ফোন। সাংবাদিক সোমা মাইতি জানিয়েছেন, পুলিসের কাছে কাতর আর্তি জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা কোথায়? পুলিস কেন নীরব দর্শক হয়ে থাকল? রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। প্রতিনিধি সোমা মাইতি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'বীভত্স মেরেছে আমাদের। কথা বলতে পারছি না। মহেশপুর মোড়ে আন্দোলনকারীরা বেধড়ক মারধর করে। আমাদের টোটোকে ঘিরে ধরে হাজার লোক। চুলের মুঠি ধরে টানে, ফোন ছিনিয়ে নেয়, পা টেনে ধরে, গায়ে হাত দেয়। যা আমাদের বাঁচাল, তাদেরও মেরেছে। চিত্র সাংবাদিকের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।'
পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করায় সোমা মাইতি বলেন, 'ওখান থেকে বেরিয়ে দেখি প্রচুর পুলিস দাঁড়িয়ে। পুলিসকে গিয়ে বললাম, আমাদের রেসকিউ করুন। পুলিস বলল, আমাদের গাড়ি নেই, এক্তিরায় নেই। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুলিস সবটা দেখল।'
কী চলছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়?
সকাল প্রায় ৮ টা থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টানা অবরোধ চলছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। বেলডাঙার মহেশপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধের জেরে বিশাল জানজট। বহরমপুর থেকে কৃষ্ণনগরগামী ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক কার্যত রুদ্ধ। তৈরি হয় বিশাল জানজট। পুলিস স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু অবরোধ তুলতে নারাজ হয়নি স্থানীয়রা। বেলডাঙা মহেশপুর আন্ডারপাসের কাছে রেল অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। আটকে পড়ে রাণাঘাট থেকে লালগোলা গামী ট্রেন। পলাশী স্টেশনে থমকে কলকাতা থেকে লালগোলাগামী হাজারদুয়ারী এক্সপ্রেস। সুজাপুরে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে যাচ্ছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অন্যদিকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে এখনও চলছে অবরোধ। চলছে ট্রেন অবরোধও।
কেন এই উত্তাল পরিস্থিতি?
ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বেলডাঙায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ। মৃতদেহ নিয়ে চলে অবরোধ। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। রেল লাইনেও অবরোধ। আটকে কৃষ্ণনগরগামী মেমু ট্রেন। ঝাড়খন্ডের বিশ্রামপুরে ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতেন বেলডাঙার সুজাপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আলাউদ্দিন সেখ। বৃহস্পতিবার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের দাবি, খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বেলডাঙার মহেশপুর এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। বেলডাঙা মহেশপুর আন্ডারপাসের কাছে রেল অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি এটাকে সাপোর্ট করছি না কিন্তু মবের মধ্যে ঢুকতে বারণ করো। এটা আমার হাতে নেই আমি তো করাইনি ঘটনাটা জুম্মাবারে এমনি জমায়েত হয় প্রোগ্রাম করে, মন্দিরে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ যায় ভোলে বাবা পার লাগাও যায় দুর্গাপুজোয় যায় আমি কি তাদের আটকাতে পারি? এটা তাদের স্বতঃস্ফূর্ততা। খুবটা স্বাভাবিক যৌথ হাজার হাজার লোককে নোটিশ পাঠাচ্ছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, বিজেপি দাঙ্গা গুলো লাগাচ্ছে এর পেছনে গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার এজেন্সি আছে। আমি এটাকে নিন্দা করি তীব্র নিন্দা করি, আমি সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের কাছে আবেদন করব যারা করছেন শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের উপর ভরসা রাখুন আমরা তো আপনাদের সঙ্গে আছি সর্বধর্ম সমন্বয়ের সঙ্গে আছি সব মানুষের সঙ্গে আছি। কোনও সাংবাদিকদের গায়ে কেউ হাত দেবেন না সবার কাছে অনুরোধ থাকবে।'
বেলডাঙার বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ বলেন, 'খুবই নিন্দনীয় ব্যাপার। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি পুলিসকে ব্যবস্থা নিতে বলব। দোষীদের চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে বলছি। যে মারা গিয়েছে, তাঁকে মাটি দিতে এসেছি। সোমাদিকে আমি খুব ভালো করে চিনি। আমি গিয়েই ব্যবস্থা করছি।'