জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আতঙ্কের নয়া নাম এখন নিপা। 'মারণ' ভাইরাসের সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সতর্ক সব মহল। কিন্তু এরমধ্যেই জ্বর, সর্দি, কাশি ও বমির উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক মহিলার মৃত্যুতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিপার মতো 'মারণ' ভাইরাসের সংক্রমণেই কি মৃত্যু ওই মহিলার? ওই মহিলা-ই কি নিপায় প্রথম মৃত্যু রাজ্য়ে? উত্তর মেলেনি। কারণ, নমুনা পরীক্ষার আগেই মৃত্যু হয় মহিলার৷ কিন্তু ওই মহিলার উপসর্গ মিলে যাচ্ছে নিপা উপসর্গের সঙ্গে। আর তারপরই নতুন করে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
ইতিমধ্যে ওই মহিলার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্র-রাজ্য জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম। প্রসঙ্গত, বারাসতের বেসরকারি নার্সিং হোমের দুই নার্সের সংক্রমণের আগেই ওই একই হাসপাতালে নিপা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ওই মহিলার! দুই নার্সের সংক্রমিত হওয়ার বেশ কয়েকদিন আগে জ্বর, সর্দি, কাশি ও বমির উপসর্গ নিয়ে বারাসতের ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই মহিলা। সেটা ছিল ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়। ওই মহিলার মৃত্যু হয়। এর পনেরো দিনের মাথাতেই নিপায় আক্রান্ত হন হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স।
এই ঘটনা সামনে আসার পরই স্বাভাবিকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জোর চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ওই মহিলার মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য! হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই মহিলার লালারস কিংবা রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর আগেই মৃত্যু হয় বছর পঞ্চান্নর ওই মহিলার। তাই ওই মহিলা ভয়ংকর নিপায় সংক্রামিত ছিলেন কিনা, জানা যায়নি। এখন এই মহিলার মৃত্যুর সঙ্গে নিপা ভাইরাসে দুই নার্সের আক্রান্ত হওয়ার কোনও যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। ওই মহিলার চিকিৎসা চলাকালীন দুই নার্স তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন কিনা, সেখান থেকেই নিপা সংক্রমণ কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বারাসতের উত্তর কাজীপাড়া ঝাউতলার বাসিন্দা ৫৫ বছরের ওই মহিলা গত ১৯ ডিসেম্বর হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন। সঙ্গে ছিল সর্দি, কাশি ও বমিও হতে থাকে। অসুস্থতা বাড়লে তাঁকে বারাসতে যশোর রোডের পাশে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু ক্রমশ অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। শেষে মাত্র ৩ দিনের মাথায় ২২ ডিসেম্বর ওই মহিলার মৃত্যু হয়। ওদিকে নিপায় আক্রান্ত দুই নার্সের নাইট ডিউটি ছিল ২০ ও ২১ ডিসেম্বর। একসঙ্গেই নাইটি ডিউটি করেন তাঁরা। আর ঠিক একদিন পর-ই জ্বরে আক্রান্ত হন দুজন ৷ আর এখান থেকেই দানা বেঁধেছে সন্দেহ।
আক্রান্ত ২ নার্সের মধ্যে কোমামুক্ত এক নার্স। তবে দুজনই রয়েছেন আইসিইউ-র ভেন্টিলেশনে। দুই নার্স-ই চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বলে খবর। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও কেউই বিপদমুক্ত নন। এমনটাই জানা গিয়েছে হাসপাতাল সূত্রে। তাদের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখছেন জয়েন্ট আউটব্রেক টিমের সদস্যরা।