• মুম্বইয়ে ‘ফ্লপ শো’, তবু ঠাকরে-পাওয়ারকে টেক্কা কংগ্রেসের! পুরভোটে আসল ‘বাহুবলী’ কে?
    এই সময় | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা BMC-র গণনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে কংগ্রেসের করুণ দশা। আসন সংখ্যার নিরিখে দেশের বাণিজ্যনগরীতে তারা দুই বা তিনেও নেই, আছে চার নম্বরে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা চমকে দেওয়ার মতো। মুম্বইয়ে ব্যর্থ হলেও গোটা মহারাষ্ট্রের নিরিখে আঞ্চলিক দুই পাওয়ারহাউস— ঠাকরে এবং পাওয়ারদের পিছনে ফেলে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এল কংগ্রেস।

    রাত ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরনিগমে কংগ্রেস মোট ৩১৮টি ওয়ার্ডে জিতেছে বা জেতার বিষয়ে এগিয়ে রয়েছে। দল হিসেবে সবার আগে রয়েছে BJP। তারা জিতেছে বা এগিয়ে আছে ১৪২২টি ওয়ার্ডে। ৩৬৬টি ওয়ার্ডে জিতে বা এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে একনাথ শিন্ডের শিবসেনা। তৃতীয় স্থানেই রয়েছে ‘হাত’ শিবির।

    তাৎপর্যপূর্ণ হলো, রাজ্যে এখন অজিত পাওয়ার (১৫৯) তাঁর কাকা শরদ পওয়ারের (২৯) চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের (১৬১) সঙ্গে দীর্ঘদিন বাদে রাজ ঠাকরে (১৭) হাত মেলালেও রাজ্যজুড়েই কোণঠাসা এখন ঠাকরের শিবসেনা। একমাত্র মুম্বই এখনও কিছুটা হলেও তাঁদের মান রক্ষা করেছে।

    সার্বিক ফলে কংগ্রেসের সংখ্যাটা ভদ্রস্থ হলেও, তাতে মুম্বইয়ের কোনও অবদান নেই বললেই চলে। মুম্বইয়ে ২৪ এবং পুনেতে মাত্র ১৬টি আসনে জিতেছে বা এগিয়ে আছে শতাব্দী প্রাচীন এই দল। নভি মুম্বইয়ে খাতাই খুলতে পারেনি, ঠানেতে জুটেছে মাত্র দু’টি। পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়, ভাসাই-ভিড়ার, উলহাসনগর, নান্দেদ, জলগাঁও, এবং কল্যাণ ডোম্বিভলির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে কংগ্রেসের ফল বলার মতো নয়। কোথাও জুটেছে ১টি ওয়ার্ড, কোথাও ঝুলি শূন্য।

    মুম্বই-পুনের মতো এলাকায় মুখ থুবড়ে পড়লেও রাজ্যের কয়েকটি পুরনিগমে কংগ্রেসের ফল আশা জাগাতে পারে দিল্লির নেতাদের। ভিওয়ান্ডি নিজামপুর, কোলাপুর, চন্দ্রপুর এবং লাতুরে BJP-কে টেক্কা দিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে তারা। এ ছাড়া মিরা ভয়ন্দর, নাগপুর, আকোলা ও সাঙ্গলি মারজ কুপওয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

    নির্বাচনের ফলে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করতেই হবে, তা হলো রাজ্যে এআইমিমের উত্থান। সব মিলিয়ে ৯৪টি ওয়ার্ডে তারা জিতেছে বা এগিয়ে রয়েছে। পিছনে ফেলেছে শরদ পাওয়ারের এনসিপি বা রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনাকেও। ২০টি ওয়ার্ডে জিতে মালেগাঁও পুরনিগমে তারাই শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া ধুলে, নান্দেদ ওয়াঘলা এবং সম্ভাজীনগরে তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

    যদিও এগুলি স্থানীয় নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনের ফল থেকে স্পষ্ট, মহারাষ্ট্রের মাটিতে এখন BJP-র বিরোধী হিসেবে আঞ্চলিক দলগুলির থেকেও কংগ্রেসের মতো জাতীয় দলের সমর্থন বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায়। শহরাঞ্চলে অবশ্য এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে BJP। আর মুদ্রার উল্টোপিঠ হিসেবে উঠে আসছে এআইমিম-ও।

  • Link to this news (এই সময়)