• অনির্বাণের উপর থেকে ব্যান সরানোর আর্জি দেবের! কী বললেন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ
    আজকাল | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • দুঃসময়ে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের পাশে দাঁড়িয়ে দেব স্পষ্ট করে দিলেন তাঁর অবস্থান। টলিউডে জোর গুঞ্জন উঠেছিল, ফেডারেশনের সঙ্গে সংঘাত বাড়িয়েই নাকি তাঁদের আরোপিত ‘ব্যান’ উপেক্ষা করে অনির্বাণকে নিজের ছবিতে নিচ্ছেন মেগাস্টার। তবে এই সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দেন দেব নিজেই। তিনি জানান, তাঁর ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের আগামী ছবিতে অনির্বাণ থাকছেন না।

    তবে এখানেই থামেননি দেব। অনির্বাণের প্রতিভার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, এমন একজন দক্ষ অভিনেতার কাজ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সতীর্থের হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেও দ্বিধা করেননি তিনি। শুধু তাই নয়, অনির্বাণের পরিস্থিতি নিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে ভাবনাচিন্তা করার অনুরোধ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জির কাছেও আবেদন করেন দেব।

    ফেডারেশনের সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়ানোর পরেই কাজ কমে আসে অনির্বাণের। ‘রঘু ডাকাত’-এর পর আর বড় কোনও প্রোজেক্টে দেখাও মেলেনি তাঁর। অভিনেতাকে সমর্থন করে দেবের বক্তব্য নিয়ে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “দেব কী বলেছেন আমি জানি না। উনি ওঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য করেছেন। আমরা আগে শুনি, তারপর মন্তব্য করব। অনির্বাণ কাজে ফিরবেন কি না, সেই নিয়ে কিছু বলতে হলে ফেডারেশন থেকে বলা হবে। তাই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।”

    অনির্বাণ বরাবরই বাংলা বিনোদন জগতের এমন এক মুখ, যিনি শুধু অভিনয়েই নয়, নিজের বক্তব্য, গান ও সামাজিক অবস্থানের জন্যও বারবার চর্চায় উঠে এসেছেন। থিয়েটার থেকে সিনেমা, আবার মঞ্চ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সব জায়গাতেই তিনি স্পষ্টভাষী ও আপসহীন মনোভাবের জন্য পরিচিত। ফেডারেশনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর পর তা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি।

    সহকর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে দেব বলেন, “অনির্বাণ একজন এত ভাল অভিনেতা। ফেডারেশনের সঙ্গে ওর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আমি চাইব, আমার ছবিতে থাকুক বা না থাকুক, কিন্তু একটা ছেলে এত সুন্দর অভিনেতা, কাজ তো করা উচিত। আমি ফেডারেশনকে এটাই বলব যে, এই সংস্থা তো সব টেকনিশিয়ানদের মাথা, আমিও টেকনিশিয়ানের ছেলে। আমার বাবা তো বম্বেতে ক্যাটারিং করত। তার ছেলে আজ হিরো হয়েছে। আমি নিশ্চিত, এখানকার টেকনিশিয়ানরাও চান তাঁদের ছেলে-মেয়েরাও ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হোক। আমি কাউকে ব্যান করে দেওয়ার বিপক্ষে। তার মানে এটা নয় যে আমি ফেডারেশনের বিপক্ষে কথা বলছি। যদি ক্ষমা চাইতে হয় অনির্বাণকে, আমি ওর হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ওকে দয়া করে কাজ করতে দিন। ও এমন একজন অভিনেতা, যাকে বাংলার দরকার। ওর অনেক অবদান বাকি আছে। ও ভাল ছেলে না খারাপ ছেলে সেটা আমার কাছে জরুরি নয়। ও একজন অভিনেতা, আমার কমিউনিটির একজন লোক।”
  • Link to this news (আজকাল)