• ইরানে নৌসেনার হাতে বন্দি ১৬ ভারতীয় নাবিক সহ ১৮
    বর্তমান | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: ৮ ডিসেম্বর ২০২৫। ক্যাপ্টেন বিনোদ পারমারকে ফোন করেন ভাই ক্যাপ্টেন বিজয় কুমার। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জানান, তাড়া করে তাঁদের জাহাজ আটক করেছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরগিসি)। বন্দি করা হয়েছে ১৮ জন নাবিককে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়। এরপরেই ফোন কেটে যায়। ঘটনার সময় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জলসীমায় ছিল তেলবাহী জাহাজ ‘ভ্যালিয়েন্ট রোর’। ইতিমধ্যে দেড় মাস কেটে গিয়েছে। তবে বন্দি নাবিকদের এখনও ফেরানো সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার, ভারতীয় দূতাবাসের থেকে কোনও সাহায্য মেলেনি। এই অবস্থায় দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বন্দি নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রকে এবিষয়ে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে আদালত। বর্তমানে বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ইরান। এহেন অবস্থায় উদ্বেগ বাড়ছে ভারতে।জানা গিয়েছে, দুবাইয়ের গ্লোরি ইন্টারন্যাশনাল এফজেড এলএলসির তেলবাহী জাহাজ ভ্যালিয়েন্ট রোর। যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় সাহায্যের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহির খোর ফক্কানের দিকে যাচ্ছিল। আচমকা ক্যাপ্টেন বুঝতে পারেন, তাঁদের জাহাজের পিছু নিয়েছে আইআরগিসি। জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে ইরান নৌসেনা। কিছুক্ষণ পরেই উপরে উঠে আসে বাহিনী। মারধর করার পর ১৮ জন নাবিককে বন্দি করে তারা। ইরানের অভিযোগ, ৬০ লক্ষ লিটার ডিজেল পাচার করছিল ভ্যালিয়েন্ট গ্লোরি। জাহাজ কর্তৃপক্ষের দাবি, কম পরিমাণে সালফার থাকা তেল (ভিএলএসএফও) নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যন্ত দেখা হয়। পত্রপাঠ তা খারিজ করে দেয় তেহরান। এরপরেই জাহাজটিকে আটক করে ওমন উপসগারের বন্দর-এ-জাস্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আটক সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ জারি করা হয়নি।ক্যাপ্টেন পারমার জানান, বন্দিদের জাহাজের একটি ঘরে রাখা হয়েছিল। ফোন, ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়া হয়। শুধু জাহাজের ক্যাপ্টেন দিনে কয়েক মিনিট কথা বলার অনুমতি পেতেন। এই অবস্থায় প্রথমে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিংয়ের দ্বারস্থ হন ভারতীয় নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা। একইসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক ও তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। উত্তরে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, বন্দিদের মুক্ত করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)