• নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়ে জয়ী গৌরী লঙ্কেশ-খুনে অভিযুক্ত
    বর্তমান | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • ছত্রপতি শম্ভাজিনগর: শুক্রবার মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন পুরনিগম নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। আর তার মধ্যেই নজর কেড়েছে জালনা পুরনিগমের ফলাফল। সেখানে নির্দল প্রার্থী হিসাবে জয় পেয়েছেন শ্রীকান্ত পানগরকর। ২০১৭ সালে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী গৌরী লঙ্কেশ খুনে অভিযুক্তদের অন্যতম শ্রীকান্ত। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএতেও মামলা দায়ের হয়েছিল। এদিন ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি ও অন্য দলের প্রার্থীদের হারিয়ে ২ হাজার ৬২১ ভোটে জিতেছেন তিনি। এরপরই রাস্তায় নেমে উল্লাস শুরু করেন শ্রীকান্তের সমর্থকরা। গৌরী খুনের মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। তার মধ্যেই ওই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্তের জয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে। খুনে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির জনপ্রতিনিধি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। যদিও জয়ের পর পানগরকর জানিয়েছেন, এখনও ওই মামলার কোনো নিষ্পত্তি হয়নি, কোনো সাজাও ঘোষণা হয়নি।২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর বাড়িতে গুলি করে গৌরী লঙ্কেশকে খুন করা হয়। ঘটনায় আঙুল ওঠে হিন্দুত্ববাদীদের দিকে। এর প্রতিবাদে সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের আমলে দেশে বাকস্বাধীনতার অধিকার ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। প্রথমে নাম না থাকলেও পরে খুনের মামলায় শ্রীকান্ত পানগরকরের নাম যুক্ত হয়। ২০২৪ সালে কর্ণাটক হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। পানগরকরের রাজনৈতিক যোগ নতুন নয়। ২০০১ ও ২০০৬ সালে তিনি অবিভক্ত শিবসেনার হয়ে জালনা পুরনিগমের কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১১ সালে টিকিট না পাওয়ায় পানগরকর হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি নামে একটি সংগঠনে যোগ দেন। ২০১৮ সালে বোমা ও অস্ত্রসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা। ইউএপিএতে মামলা দায়ের হয়। ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগে পানগরকর শিবসেনা (সিন্ধেপন্থী)-য় যোগ দেন। কিন্তু তুমুল সমালোচনার মুখে পরে তাঁকে আর সিন্ধে-সেনায় যোগ দিতে দেওয়া হয়নি।
  • Link to this news (বর্তমান)