বাংলার মানুষকে অযথা হেনস্তা করা হচ্ছে, সমালোচনা প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার লাভাসার
বর্তমান | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে অহেতুক বাংলার মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। যেভাবে হাজিরার নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তা বেনজির। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা নেই। শুক্রবার এভাবেই নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করলেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা। দেশের বর্তমান বা প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে মোদি সরকার নতুন যে আইন এসেছেন, তারও সমালোচনা করেছেন তিনি। বলেন, এরকম রক্ষাকবচ সাধারণত কাউকেই দেওয়া হয় না। কেনই বা দেওয়া হবে? এটি হওয়া উচিত নয়।শুক্রবার এক আলোচনাসভায় অংশ দেন অশোক লাভাসা, অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অনিল ভার্মা এবং বিহারের শাসক দল জেডিইউয়ের প্রাক্তন সাংসদ কে সি ত্যাগী। সেখানেই লাভাসা বলেন, সংবিধানে কোথাও এসআইআরের কথা বলা নেই। তবে তার মানে এই নয় যে কমিশন ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণ করতে পারে না। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় তা করা হচ্ছে, তার মধ্যে স্বচ্ছতা নেই। লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নামে যে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, তা বেনজির। ২০০২ বা ২০০৩ সালের ভোটার তালিকাকে মান হিসেবে ধরা হলেও সেই সময়ে কীভাবে এসআইআর হয়েছিল, তার কোনও প্রক্রিয়া কমিশনের কাছে নেই।ফলে স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে বলেই মন্তব্য করেন লাভাসা। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, সরকার এমন কোনও নথি আজ পর্যন্ত দেয়নি, যেটা একাই নাগরিকত্ব প্রমাণ দিতে পারে। তাছাড়া কমিশনের কাজ নাগরিকত্ব নিয়ে নয়। ফলে অনেক যোগ্য ভোটারও বাদ চলে যাচ্ছে। যা মোটেই হওয়া উচিত নয়। কে সি ত্যাগীও কমিশনের কাজে আরও স্বচ্ছতার প্রয়োজন বলেই মন্তব্য করেন। অনিল ভার্মা বলেন, নির্বাচন কমিশন নিজেই নিজের নিয়ম মানছে না। পশ্চিমবঙ্গে অহেতুক হেনস্তা করা হচ্ছে নাগরিকদের। হোয়াটস অ্যাপে নির্দেশ পাঠিয়ে অনৈতিক কাজ হচ্ছে। ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণে ২০১৪ সালের ভোটার তালিকাকে মান হিসেবে ধরা উচিত। তাছাড়া বিএলও কেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির ভুল শুধরোচ্ছে না? কেন ভোটারদের যেতে হবে শুনানিতে?