নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তিন বছর ধরে রাজ্য-রাজ্যপাল টানাপোড়েনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। অবশেষে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ মামলায় জট কাটতে চলেছে। ৩৬ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তা মিটতে চলেছে। শেষ ১১টিতে নিয়োগ নিয়ে সমস্যা ছিল। তার মধ্যে শুক্রবার শুনানিতে আট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর নামে রাজ্য-রাজ্যপাল সহমত পোষণ করায় দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ দিল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ।বাকি তিনটের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের পছন্দের প্রার্থীতে আপত্তি তুলেছেন রাজ্যপাল তথা পদাধিকারবলে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সি ভি আনন্দ বোস। যদিও এই তিনটেতে দ্রুত যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটিকে সুপারিশের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের জেরে যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জট কাটল না, সেগুলি হল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি।বর্তমান নামের প্যানেল থেকে ফের নতুন নাম প্রস্তাব করতে পারবেন সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান তথা দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত। আর কোনও নামই যদি শেষমেশ যোগ্য বলে মনে না হয়, তাহলে নতুন করে ওই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। এদিন আদালতে উপস্থিত উভয়পক্ষই আদালতের নির্দেশ মেনে নেয়। আগামী চার সপ্তাহ পর ফের এই মামলার শুনানি হবে।টানাপোড়েন শেষে যে আটটি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর নামে রাজ্য-রাজ্যপাল সহমত পোষণ করেছেন, সেগুলি হল, ১) সংস্কৃত কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি (নিয়োগ হতে চলেছেন অধ্যাপক অয়ন ভট্টাচার্য), ২) কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় (সঞ্চারী রায় মুখোপাধ্যায়), ৩) হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় (নিমাইচন্দ্র সাহা), ৪) রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় (অর্ণব সেন), ৫) ডায়মন্ডহারবার উইমেন্স ইউনিভার্সিটি (মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়), ৬) বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয় (অরুণাশিস গোস্বামী), ৭) উত্তরবঙ্গ কৃষি বিদ্যালয় (দেবব্রত বসু) এবং ৮) ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি (দেবব্রত মিত্র)।