তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: দু’দিন ধরেই সাজোসাজো রব। শুক্রবার সকাল থেকে শিলিগুড়ির সব রাস্তার মুখ যেন ঘুরে যায় মাটিগাড়ায়। যেখানে বিকেলে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস হয়। দুপুরে গড়াতেই উচ্ছ্বাস যেন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। ঢাক-ঢোল, ধামসা-মাদল নিয়ে ‘হর হর মহাদেব’ আওয়াজ তুলে হাজার হাজার শিবভক্ত উপস্থিত হন অনুষ্ঠানস্থলে। নির্দিষ্ট সময়ে মঞ্চে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তাঁর ভাষণ, পরবর্তীতে তাঁর হাত ধরে শিলান্যাস হল বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মন্দিরের।এদিন গোটা অনুষ্ঠান কেউ সোশ্যাল মিডিয়াতে লাইভ করলেন। কেউ ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের দেখালেন। কেউ রিলস বানিয়ে রাখলেন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার জন্য। অনেকেই এদিন আবার ডমরু নিয়ে হাজির হয়েছিলেন অনুষ্ঠানস্থলে।সাড়ে ৩টে নাগাদ অনুষ্ঠানস্থলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চে উঠে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। ৪টে ৫ মিনিটে বক্তব্য রাখা শুরু করেন। একেএকে বিভিন্ন পরিষেবা, প্রকল্পের উদ্বোধন করলেও ঘড়িতে শিলান্যাস অনুষ্ঠানের সেই অমৃতযোগের অপেক্ষা করছিলেন। সোয়া ৪টে নাগাদ সব ধর্মগুরুদের পাশে নিয়ে ‘হর হর মহাদেব, রক্ষা করো মহাদেব’ বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৪টে ৩০ মিনিটে শঙ্খ-উলুধ্বনি শুরু হয়। মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেন মমতা।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মন্দিরটি ১৭.৪১ একর জায়গায় করা হচ্ছে। মন্দিরের সর্বমোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট। ব্রোঞ্জের শিবের মূর্তির উচ্চতা হবে ১০৮ ফুট। বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মন্দির হবে এটি। প্রতিদিন এক লক্ষ দর্শনার্থী আসতে পারবেন। ১২টি অভিষেক লিঙ্গ থাকবে চারিদিকে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ থাকবে। শিবালয়ের রীতি অনুযায়ী মন্দিরের চারকোণে চার দেবতার মূর্তি থাকবে। দক্ষিণ-পশ্চিমে গণেশ, উত্তর-পশ্চিমে কার্তিক, উত্তর-পূর্বে শক্তি ও দক্ষিণ-পূর্বে বিষ্ণু-নারায়ণ। দু’দিকে থাকবে দু’টি সভাকক্ষ। ভিতরে মহাকাল মিউজিয়াম, সংস্কৃতি হল। দু’টি নন্দীগৃহ থাকবে যা পূর্ব ও পশ্চিমে অবস্থান করবে। মন্দিরের দু’টি প্রদক্ষিণ পথ থাকবে। যেখানে ১০ হাজার পুণ্যার্থী চলতে পারবেন। মহাকালের কাহিনি ও মহিমা পাথরের শিল্পে ফুটিয়ে তোলা হবে। এছাড়াও যেকোনও পর্যটন কেন্দ্রের মতো সব ব্যবস্থাই থাকবে এই মন্দিরে।