নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: নিপা ভাইরাস নিয়ে সর্বত্র উদ্বেগ বাড়ছে। শুক্রবার ঝাড়গ্রামে এনিয়ে বৈঠক করল জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। বিভিন্ন বিএমওএইচ, জেলার সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার, ডেপুটি নার্সিং সুপার সহ অন্য আধিকারিকরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নিপা ভাইরাস প্রতিরোধ, চিকিৎসার প্রক্রিয়া নিয়ে সচেতনতা প্রচারের বিষয়ে আলোচনা হয়। পর্যটকদের নিপা ভাইরাস নিয়ে সচেতন করতেও বিশেষ পদক্ষেপ করা হচ্ছে।ঝাড়গ্রামের সিএমওএইচ ভুবনচন্দ্র হাঁসদা বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে এদিন বৈঠক করা হয়। সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল ও সমস্ত ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সমস্ত ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পর্যটকদের উপর বাড়তি নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিপা-সংক্রান্ত তথ্যের লিফলেট দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে। মজুত করা হচ্ছে পিপিই কিট, এন-৯৫ মাস্ক। করোনাকালে যে সমস্ত কোভিড ওয়ার্ড ছিল, সেগুলি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।শীতে ঝাড়গ্রামে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বিভিন্ন পিকনিক স্পটে নানা ধরনের ফল, খেজুরের রস বিক্রি হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই কোনওরকম বাছবিচার না করেই পর্যটকরা তা কিনে খাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। হোটেল, রিসর্ট, লজ ও হোমস্টে’তে থাকা পর্যটকদের নিপার উপসর্গ দেখা দিলে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এনে চিকিৎসা শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশাকর্মী, অক্সিলিয়ারি নার্স মিডওয়াইফ, কমিউনিটি হেলথ অফিসারদের প্রচারে নামানো হচ্ছে। তাঁরা বিভিন্ন পর্যটনস্থলে গিয়েও প্রচার চালাবেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, নিপা আক্রান্তদের মলমূত্র, থুতুর সংস্পর্শে এলে অন্যের সংক্রামিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই কারও উপসর্গ দেখা দিলে তাড়াতাড়ি স্ক্রিনিং এবং আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, নিপায় আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথা ও শরীরে ব্যথা, প্রচণ্ড কাশি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু প্রয়োজন। খোলা জায়গায় রাখা ফল, সব্জি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খেজুরের রস খাওয়া ঝুঁকিবহুল। ভিড়ের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধুতে হবে।গোপীবল্লভপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার বিদ্যুৎ পাতর বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তরের গাইডলাইন মেনে সমস্ত কিছু প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। যাঁদের নিপার উপসর্গ দেখা দেবে, তাঁদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা করা হবে। সমস্ত মানুষকে নিপা ভাইরাস নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।