• নিপা দমনে কামাল ৪ বাঙালি ডাক্তারের
    বর্তমান | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিজি রাজ্যের এক নম্বর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল। কয়েকদশক আগে অবশ্য একথা বলা যেত না। এতদিন ধারেভারে শীর্ষে ছিল কলকাতা মেডিকেল কলেজ। কেউ কলকাতা মেডিকেল কলেজের পড়ুয়া কিংবা একজন প্রাক্তনী জানলে এখনও সমীহ জাগে। এবার নিপা দমনে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনীরাই রাখলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পাকেচক্রে এঁদের প্রত্যেকেরই ‘কমন কানেকশন’ হল কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং এইমস দিল্লি তথা দেশের সর্বোচ্চ মেডিকেল প্রতিষ্ঠান। এবার দেখা যাক তাঁরা কারা? আক্রান্ত তরুণী যে সাধারণ একজন এনসেফেলাইটিস আক্রান্ত রোগীর মতো নন, তাঁর যে নিপাও হতে পারে, সেই সন্দেহ প্রথম করেছিলেন বারাসতের ওই প্রাইভেট হাসপাতালের স্নায়ুরোগ চিকিৎসক অনন্যা দাস। তিনি এমডি পাশ করেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকেই। আবার এইমস দিল্লিতে সিনিয়র রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি।১০ জানুয়ারি রাতে ডাঃ অনন্যা দাস তাঁর যে সিনিয়র দাদাকে ফোন করে গোটা ঘটনাটি জানানোর পাশাপাশি নিজের সন্দেহের কথাটি বলেন, সেই ডাঃ সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে এইমস কল্যাণীর সংক্রামক রোগ চিকিৎসাবিদ্যার প্রধান। ১১ জানুয়ারি তিনিই প্রথম নিপা আক্রান্ত দুই তরুণ-তরুণী নার্সের নমুনা সংগ্রহ করে নিপা কিটে পরীক্ষা করেন। রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসে। তাতে সারা দেশে তোলপাড় পড়ে যায়। সায়ন্তনও কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। আবার এইমস দিল্লি থেকে সংক্রামক রোগবিদ্যায় ডিএম ডিগ্রিও নেন তিনি। তাঁর সহযোগী সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে যিনি এইমসে গোটা পর্বে ছিলেন, পুরুলিয়ার ছেলে সেই ডাঃ সায়ন মহারত্নও কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং এইমস দিল্লির প্রাক্তনী। নিপা রোগীদের চিকিৎসায় রাজ্য সরকারের বিশেষজ্ঞ দলের অন্যতম সদস্য ডাঃ যোগিরাজ রায় পিজি’র সংক্রামক রোগবিদ্যা বিভাগের প্রধান। তিনিও কলকাতা মেডিকেল কলেজের অন্তর্গত স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে এমডি এবং এইমস, দিল্লি থেকে সংক্রামক রোগবিদ্যায় ডিএম করেছেন।এদিকে, বারাসতের যে হাসপাতালের দুই নার্স বর্তমানে নিপা আক্রান্ত হয়ে নিজের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সেই হাসপাতালের তরফে এক প্রেস বার্তা জারি করা হয়েছে। সেই এনএইচ গোষ্ঠীর সর্বভারতীয় সিওও আর ভেঙ্কটেশ শুক্রবার এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাশে থাকার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। হাসপাতাল জানিয়েছে, দুই স্বাস্থ্যকর্মীর সংস্পর্শে আসা সকলের রোগ পরীক্ষা করা হয়েছে। সবগুলিই ‘নেগেটিভ’ এসেছে। ১৯ জানুয়ারি থেকে তাদের বারাসত ইউনিট আগের মতোই চালু হয়ে যাবে। ডাঃ অনন্যা দাস বলেন, ‘এবার বিন্দুমাত্র দেরি না-করে পরীক্ষা এবং কনট্যাক্ট ট্রেসিং-সহ সবকিছুই হয়েছে। এজন্য নিপা দমনে এখনও পর্যন্ত খুবই ইতিবাচক ফল মিলেছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)