সৌম্যজিৎ সাহা, সাগর: গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থীদের জন্য যে খাবার বিক্রি হবে, তার গুণমান টিক থাকবে তো! মেলা শুরুর আগেই এই চিন্তা গেঁড়ে বসেছিল স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাদের মাথায়। তবে মেলা শেষ হতেই এ নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন তাঁরা। মেলা চলাকালীন আধিকারিকরা বিভিন্ন জায়গা ঘুরে সাড়ে ৪০০’রও বেশি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং সেখানে দাঁড়িয়েই পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ঘুগনি, জিলাপি, চপ, খিচুড়ি সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার ছিল। জানা গিয়েছে, তার মধ্যে ৪০০’র বেশি খাবার ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। মেলা শুরুর আগেই খাবারের মান বজায় রাখা এবং পরিবেশন করা নিয়ে দোকানিদের সতর্ক করা হয়েছিল। তাতে যে কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন আধিকারিকরা। ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য আধিকারিক ডাঃ জয়ন্ত সুকুল বলেন, খাবার ব্যবসায়ীরা সচেতন হয়েছেন বলেই এবার মেলায় ভেজাল খাবার খুব বেশি পাওয়া যায়নি। বেশিরভাগ বিক্রেতাই পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে রান্না করেছেন। এবার মেলা শুরু আগেই সাগরজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছিল। জোর দেওয়া হয়েছিল কপিলমুনি মন্দিরের আশপাশের দোকানে। তখন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ ও রং মেশানো প্রচুর মিষ্টি। কিন্তু মেলা চলাকালীন তেমন মিষ্টি খুব একটা মেলেনি বলেই দাবি করেছেন খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা। তাই গতবারের তুলনায় এবার ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই কম। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন মানুষ এসেছিলেন পেট খারাপ নিয়ে। সূত্রের খবর, আধিকারিকরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে আচমকা দোকানগুলিতে অভিযান চালিয়েছেন। কোথায় রান্না হচ্ছে, কী জল ব্যবহার হচ্ছে, তার উৎস কী প্রভৃতি খতিয়ে দেখেন। এরপর রান্না করা খাবারের নমুনা নিয়ে সেখানেই পরীক্ষা করেন। যেসব খাবার পাশ করেছে, তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যেগুলি বাতিল বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে কিছু খোলা অবস্থায় ছিল আর বাকিগুলিতে রং মেশানো ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। সেই সব দোকানিদের সতর্ক করা হয়। এদিকে, এই পর্বে যেসব খাদ্য খাবার বিক্রেতার লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নেই, তাঁদের সেগুলি করতে বলা হয়েছে। প্রায় আড়াইশোর কাছাকাছি ছোটো ও মাঝারি দোকানি রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।