নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাওড়া শহরের সম্পর্ক ছিল নিবিড় ও বহুমাত্রিক। সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও একসময় হাওড়ার সামাজিক-রাজনৈতিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করেছিলেন তিনি। শুক্রবার তাঁর ৮৯তম প্রয়াণ দিবসে সেই বিষয়গুলি নিয়ে জনমানসে কোনও সাড়া পড়ল না। যে মানুষটির নামে হাওড়া ময়দানে গড়ে উঠেছিল শরৎ সদন, সেখানে তাঁর মূর্তিতে একটি মালাও দেওয়া হয়নি। শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এই উপেক্ষার সমালোচনা দিনভর চলেছে শহরে।একসময় হাওড়া ময়দান এলাকায় দু’টি আলাদা মাঠ ছিল। একটি ডালমিয়া পার্ক। অন্যটি সার্কাস ময়দান। বর্তমানে যেখানে শৈলেন মান্না স্টেডিয়াম, সেটি ছিল ডালমিয়া পার্ক। সার্কাস ময়দান এলাকায় ১৯৮৯ সালে হাওড়ার মেয়র ও সাংসদ স্বদেশ চক্রবর্তীর সময় গড়ে উঠেছিল শহরের একমাত্র অডিটোরিয়াম ‘শরৎ সদন’। সেখানে স্থাপন করা হয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তি। ২০১৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শরৎ সদনের সংস্কার হয়। ২০২৪ সালে আরও এক দফা আধুনিকীকরণ করা হয়। হাওড়া পুরসভায় প্রশাসকমণ্ডলী থাকাকালীন বছরের বিশেষ দিনগুলিতে বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়মিত শ্রদ্ধা জানানোর রীতি ছিল। এ বছর সে ছবি দেখা যায়নি। হাওড়া সিটিজেন ফোরামের শৈবাল বসু বলেন, ‘শরৎচন্দ্রের প্রতি এই উপেক্ষা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।’ হাওড়ার প্রবীণ বাসিন্দা প্রভাত মুখোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রশাসনিক উদ্যোগ না থাকলেও রাজনৈতিক স্তরে অন্তত শ্রদ্ধা জানানো যেত। তিনি তো হাওড়া শহরেরও বাসিন্দা ছিলেন।’ প্রসঙ্গত ১৯১৬ সালে শরৎচন্দ্র হাওড়ার বাজেশিবপুরে বসবাস করতেন। অসহযোগ আন্দোলনের সময় হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। হাওড়ার টাউন হল ছিল তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। সেটি বর্তমানে পুরসভার অন্তর্গত। জেলা কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে, জন্মভিটে ও দলীয় সদর দপ্তরে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বি গার্ডেনের শরৎ লাইব্রেরিতে শরৎ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে। নিজস্ব চিত্র