• কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনা সত্ত্বেও মানুষের স্বার্থে প্রকল্পমুখী বাজেটই লক্ষ্য মমতার
    বর্তমান | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু, কলকাতা: শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরেও পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়নি ১০০ দিনের কাজ। বাধার মূলে কেন্দ্রীয় শর্ত। একইভাবে বন্ধ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দ। সব মিলিয়ে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা, যা রাজ্য বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশ। আবার জিএসটি সংক্রান্ত নয়া নিয়ম চালু হওয়ায় চলতি অর্থবর্ষে এই খাতে ৪৯ হাজার ৭৭১ কোটি রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূরণ কার্যত অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পেশ হতে চলেছে রাজ্য বাজেট। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এসব কারণে রাজ্যের উপর তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ কাটাতে নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে কি বড় কোনও চমক দেখা যাবে? সূত্রের খবর, ঋণের বোঝা সামাল দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়িয়ে প্রকল্পমুখী বাজেটের লক্ষ্যেই এগচ্ছে নবান্ন।কেন্দ্রের প্রকাশিত হিসেবেই দেখা যাচ্ছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলায় জিএসটি আদায় হয়েছে ৩৪ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। যা গত বছর ছিল ৩৪ হাজার ২৬১ কোটি। সেই নিরিখে জিএসটি বাবদ ৬০০ কোটি টাকা বকেয়া কেন্দ্র মেটালে তবেই চলতি আর্থিক বছর শেষে টেনেটুনে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রাপ্ত ৪৬ হাজার ৭৮৩ কোটির কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘রাজ্যের একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের দৌলতে মানুষের হাতে নগদের জোগান বেড়েছে। ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে ক্রয় ক্ষমতা। না হলে রাজ্যের জিএসটি আদায় আরও বেশি ধাক্কা খেত।’ অর্থাৎ, সত্যি হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কাই! জিএসটি খাতে কয়েক হাজার কোটি লোকসান সামাল দিয়েই অন্তর্বর্তী বাজেটের (ভোট অন অ্যাকাউন্ট) হিসেব কষতে হচ্ছে নবান্নকে। তবে আগামী অর্থবর্ষে চালু হতে চলা ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশন রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় করের অংশ বৃদ্ধি নিয়ে কী সুপারিশ করে, সেদিকেও নজর থাকছে। এক্ষেত্রে রাজ্যের অংশ ৪১ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে রেখেছে বাংলা।ভোটমুখী বাজেটে চমক থাকাই স্বাভাবিক। সেই সূত্রে নজরে রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি। সমান্তরালভাবে ৯৪টি সামাজিক প্রকল্প চালাতেও বিপুল অর্থ খরচ হয় রাজ্যের কোষাগার থেকে। তাই নজর থাকবে রাজস্ব ঘাটতির দিকেও। তবে এসবের মাঝেই নজর কেড়েছে রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি। যা আগামী বছরে আরও বৃদ্ধি করতে তোড়জোড় শুরু করেছে নবান্ন। বিশেষ সূত্রে খবর, গত অর্থবর্ষের (এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর) তুলনায় এবার ডিসেম্বর পর্যন্ত জমি-বাড়ি বিক্রি বাবদ রাজস্ব বৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশ। আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আবগারি বাবদ আয় ছিল ১৯ হাজার ৪৫২ কোটি। ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতে রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। যা গত বছর এই সময় পর্যন্ত ছিল ১৪ হাজার ২৪২ কোটি। ফলে অর্থবর্ষের শেষে অন্তত ২১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আবগারি রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে রাজ্যের আর্থিক উন্নয়নের উপর ভর করে বৃদ্ধি হয়েছে বিদ্যুৎ, পেট্রলিয়াম, কয়লা সহ অন্যান্য পণ্যের শুল্ক বাবদ রাজস্বও। এসব খাতে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। সাধারণত এই সমস্ত খাতে একটি অর্থবর্ষে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব কষে রাজ্য। কিন্তু, শুধু কয়লার শুল্ক বাবদ রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২.৫ শতাংশ। গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতে ১,৬০০ কোটি টাকা আয় হলেও এবছর তা ১৮০০ কোটি ছুঁয়েছে। যা আরও বাড়াতে অনলাইন শুল্ক ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে গত মঙ্গলবার কয়লা উত্তোলনকারী সংস্থার কর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে নবান্নে। - ফাইল চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)