• বাঙালি বধের রাজনীতি! এবার খুন সিঙ্গুর, বেলডাঙার ২ যুবক, বাড়ছে ক্ষোভ
    বর্তমান | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও বহরমপুর: আগামী কাল ভোটপ্রচারে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভা করবেন সিঙ্গুরে। প্রতিশ্রুতি দেবেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অনুপ্রবেশ নিয়ে লম্বা-চওড়া কথাও বলবেন। শুক্রবারই মোদি সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলায় লিখেছেন, ‘বাংলার মানুষ চায় উন্নয়নমুখী বিজেপি সরকার।’ কিন্তু যে মাটিতে তিনি রবিবার সভা করবেন, সেখানকারই ভূমিপুত্রকে খুন হতে হচ্ছে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে! কারণ কী? শুধু বাংলায় কথা বলা! তাই সেই বাঙালি হয়ে গিয়েছেন অনুপ্রবেশকারী? বাংলাদেশি? বাঙালি বধের এই রাজনীতি গেরুয়া-সৌজন্যে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রাজ্যে। এবার তার শিকার বাংলার দুই যুবক। একজন সিঙ্গুরের, অন্যজন বেলডাঙার। উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে কফিনবন্দি হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁদের বাংলার মাটিতে। আর এই ঘটনা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটাল সাধারণ মানুষের মধ্যে। উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ও হুগলির সিঙ্গুর।উত্তরপ্রদেশের কানপুরে খুন হওয়া সিঙ্গুরের শ্রমিকের নাম শহিদুল্লাহ শেখ (৩৫)। এসআইআরের শুনানিতে সিঙ্গুরে ফিরতে ১৩ জানুয়ারি রাতে তাঁর স্ত্রী আরমিনা বেগম শিশুসন্তানকে নিয়ে ট্রেনে চাপেন। সেই রাতেই ঘরের মধ্যে খুন হন শহিদুল্লাহ। ঝাড়খণ্ডের ডালটনগঞ্জে বিশ্রামপুর এলাকায় গৃহস্থালির সামগ্রী ফেরি করতেন বেলডাঙার আলাউদ্দিন শেখ (৩৫)। সেখানেই ঘরের মধ্যে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে শান্ত ও সংযত ক্ষোভ-প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছে সিঙ্গুর। শবদেহ ঘিরে দীর্ঘক্ষণ পথ ও রেল অবরোধের মধ্যে অবশ্য বেলডাঙার প্রতিবাদ অনেকটাই হিংসাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ চলে দক্ষিণের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সংযোগকারী জাতীয় সড়কে। শিয়ালদহগামী ট্রেন আটকে তাতে পাথরবৃষ্টি করা হয়। ট্রাফিক কিয়স্ক ও ভিন রাজ্যের ট্রাক ভাঙচুরের পাশাপাশি হেনস্তা করা হয় বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমের এক মহিলা সাংবাদিককেও। ঘটনার নিন্দা করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে প্রেস ক্লাব। গোলমালের সময় ব্যাপক ইটপাটকেল ছোড়া হয়। জখম কমপক্ষে ১২ জন। পরিযায়ী শ্রমিকের মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মানুষের ক্ষোভের সঙ্গত কারণ রয়েছে। বঙ্গভাষী পরিযায়ী শ্রমিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। হেনস্তার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। বেলডাঙায় কাদের প্ররোচনা আছে, আপনারা জানেন। সবাইকে বলব, শান্তি বজায় রাখুন। প্ররোচনায় পা দেবেন না।’ বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। সোরেন তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন বলে অভিষেক জানিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূল আরও একটি প্রশ্ন রেখেছে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে—কাল সিঙ্গুরের সভায় তিনি ‘বধ্যভূমি ডবল ইঞ্জিন’ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করবেন তো? নিন্দা শোনা যাবে তো শহিদুল্লাহদের মৃত্যু নিয়ে?
  • Link to this news (বর্তমান)