এই সময়: হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। সোমবার থেকেই ঘুরতে শুরু করবে বাংলার আবহাওয়া। আগামী কয়েক দিন সম্পর্কে এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। তবে তার আগে শেষ বারের জন্য নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে শীত। বৃহস্পতিবার শেষ রাতে শহরের তাপমাত্রা বুধবারের তুলনায় কিছুটা কমে নেমে আসে ১২.৫ ডিগ্রিতে। এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় দু’ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে। শুক্রবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও (২৩.৮) স্বাভাবিকের চেয়ে দু’ডিগ্রি কম ছিল। তবে, আবহবিদদের মতে, আরামদায়ক এই আমেজের মেয়াদ আর মাত্র কয়েক ঘণ্টাই।
মাঘের প্রথম সপ্তাহ থেকে এমন ভাবে শীত বিদায়ের তোড়জোড় — ভারতের আবহাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে এটাই যেন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাবে ২০২৫–এ কলকাতা জানুয়ারিতে শেষবারের মতো ১২ ডিগ্রি পেয়েছিল ১১ তারিখ — মাঘ পড়ার আগেই। ২০২৪–এ জানুয়ারির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (১১.৮ ডিগ্রি) অবশ্য রেকর্ড হয়েছিল মাঘেই (২৩ জানুয়ারি)। তবে তার আগের বছর, ২০২৩–এ ৮ জানুয়ারির পরে শহরের রাতের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির ঘরে নামেনি। অর্থাৎ সে বছরও মাঘের কলকাতা ১২ ডিগ্রি দেখেনি।
আবহবিদরা জানিয়েছেন, এ বছর বাংলা থেকে শীতের প্রভাব দ্রুত কমতে শুরু করবে। এ বার গরমও অন্য বছরের তুলনায় তাড়াতাড়ি পড়বে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। পূর্বাভাস রয়েছে, এ বছর দেশে গরমের প্রাবল্যও বেশি থাকবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজি–র (আইআইটিএম) আবহবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২৫–এ দেশের প্রথম তাপপ্রবাহের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। এ বারও কি তেমন আশঙ্কা রয়েছে? এ বিষয়ে যদিও এত আগে থেকে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ বিজ্ঞানীরা।
২০২৬–এর জানুয়ারিতে কলকাতা পর পর দু’দিন রাতের তাপমাত্রাকে ১০ ডিগ্রির ঘরে নামতে দেখেছে। ২০১৩–র পর থেকে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে কলকাতা ‘প্রকৃত শীত’ পড়তে দেখেছে ২৫ ডিসেম্বর থেকে। ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তার প্রভাব থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার পরে শীতের আমেজটুকু যতদিন বজায় থাকবে, ততদিনই স্বস্তিতে থাকবে দক্ষিণবঙ্গ।
শুক্রবার আলিপুর হাওয়া অফিসের পাঠানো রিপোর্ট বলছে এ দিন দক্ষিণবঙ্গের আটটি ওয়েদার স্টেশনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সিঙ্গল ডিজিটে ছিল। এদের মধ্যে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে শ্রীনিকেতনে (৭.৬)। এ দিন উত্তরবঙ্গেও সমতলে দু’জায়গায় রাতের তাপমাত্রা সিঙ্গল ডিজিটে ছিল। রাজ্যের মধ্যে শীতলতম ছিল দার্জিলিং (৪)।