• ‘ওদের ডাকেই সকালে ঘুম ভাঙে’, বাদুড়কে আগলে রাখেন সকলে, ‘নিপা’ আতঙ্কে কী বলছেন বাঁকুড়ার গ্রামের মানুষ?
    এই সময় | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • ‘নিপা’ ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কায় বাদুড়ের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সতর্ক করছে স্বাস্থ্য দপ্তরও। তবে বাদুড়ের সঙ্গে ওঠাবসা বাঁকুড়ার এই গ্রামে। বাদুড়কে কার্যত আগলে রাখেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয়দের দাবি, এই ট্র্যাডিশন কয়েকশো বছরের। নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত খবর পৌঁছেছে সেই গ্রামেও। এর পরেও কি আতঙ্ক নেই? কী বলছেন গ্রামবাসীরা? ঘুরে দেখল এই সময় অনলাইন।

    বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের মাজডিহা গ্রাম। বাদুড়ের ‘স্বর্গরাজ্য’ বলা হয় এই গ্রামকে। গ্রামের আনাচ-কানাচে থাকা গাছে গাছে হাজার হাজার বাদুড়ের বাস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাশাপাশি থাকতে থাকতে এই গ্রামের মানুষ মনে করেন বাদুড়েরা তাদের পরিবারেরই একজন। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ গ্রামের মানুষের অজানা নেই। কিন্তু তবু বাদুড়ের সঙ্গে এই গ্রামের মানুষের শত শত বছরের সম্পর্ক আজও অটুট।

    গ্রামবাসী প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের সময় থেকেই এই বাদুড়ের বসবাস। কেউ এই পাখিগুলির ক্ষতি করতে চাইলে আমরা আটকাই। আমরা ওদের পরিবারের সদস্য মনে করি। তবে এই ভাইরাস নিয়ে আমাদের কোনও ভয় নেই। আমরা তো এত বছর ধরে রয়েছি, এই গ্রামে কোনও সমস্যা হয়নি।’ আরেক বাসিন্দা সোমা ঘোষ বলেন, ‘আমাদের কোনও ভয় নেই। ওদের ডাকেই ভোরে আমাদের ঘুম ভাঙে। এখানে বাদুড়কে মারতে দেওয়া হয় না।’

    নিপা ভাইরাস সংক্রমণের কোনও খবর বাঁকুড়া জেলায় শনিবার পর্যন্ত নেই। তবে বিষয়টি হালকা ভাবে নিচ্ছে না জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বিষয়টিকে নিয়ে জেলার অন্যান্য ব্লকের পাশাপাশি মাজডিহা গ্রামের বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর।

    জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘ফল বা খেজুরের রস থেকে ভাইরাস সংক্রমণের একটা সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের সেই কারণে সতর্ক থাকতে হবে। ওই এলাকাতে মানুষের আরও বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। বাদুড়কে মেরে বা তাড়িয়ে দিতে পারি না। তবে মানুষের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা উচিত।’

  • Link to this news (এই সময়)