একই সঙ্গে ডুয়ার্সের দুই জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল, একটাই নাকি আলাদা?
আজ তক | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
মাঘের শুরুতেই উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ দপ্তরের সামনে যেন জোড়া চমক। তিন বছর পর ফের বাঘের ছবি উঠেছে বক্সা টাইগার রিজার্ভে। বৃহস্পতিবার রাতে রিজার্ভের গভীরে বসানো ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়েছে পূর্ণবয়স্ক একটি বাঘ। বনকর্তাদের দাবি, এত কাছ থেকে আগে কোনওবার এমন স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েনি।
একই সময় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানেও মিলেছে বাঘের পায়ের স্পষ্ট ছাপ। একশৃঙ্গ গন্ডারের চারণভূমি এই জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতি নিয়ে বহুদিন ধরেই সন্দেহ ছিল। এবার সেই মাটিতে পাওয়া পায়ের ছাপেই বাড়ছে কৌতূহল। বক্সার বাঘটি সেখান দিয়ে হেঁটে গিয়েছে, নাকি আলাদা কোনও বাঘ ডুয়ার্সে প্রবেশ করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বক্সায় বাঘ শুমারির জন্য প্রায় হাজারখানেক ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো হয়েছে। তারই একটিতে ১৫ জানুয়ারি রাত ৮টা ১৯ মিনিটে ধরা পড়ে বাঘটি। তদন্তে বনাধিকারিকদের স্পষ্ট ধারণা, এটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘ। ২০২১ ও ২০২৩ সালে ট্র্যাপ ক্যামেরায় বাঘ দেখা গেলেও এতটা নিকটবর্তী ছবি আগে কখনও আসেনি। তবে এখনও পর্যন্ত বক্সায় কোনও রেসিডেন্ট বাঘ নেই, এটি বরাবরই মাইগ্রেশন রুট হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে।
বন দফতর মনে করছে, বারবার বাঘের দেখা মেলার মানে জঙ্গলপথ নিরাপদ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা সঠিক পথে এগোচ্ছে। তবে জলদাপাড়ায় বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া নিয়ে যেমন উত্তেজনা, তেমনই রয়েছে দুশ্চিন্তা। কারণ বাঘের উপস্থিতি বাড়লে চোরাশিকারিদের তৎপরতাও বাড়তে পারে। তাই প্যাট্রলিং আরও জোরদার করা হচ্ছে।
বক্সা ও জলদাপাড়ার মাঝখানে পাশাপাশি বয়ে গিয়েছে তোর্সা ও কালজানি নদী। শীতকালে নদী সাঁতরানো বাঘের পক্ষে কঠিন নয় বলেই মনে করছেন বনকর্তারা। ফলে বক্সার বাঘ জলদাপাড়ায় ঢুকেছে, এ সম্ভাবনাকে নস্যাত করা যাচ্ছে না। তবে একই সময়ে দুই জঙ্গলে দুই বাঘের উপস্থিতি, এই সম্ভাবনাও খোলা রাখছে বন দফতর। জলদাপাড়ার মনিটরিং ক্যামেরায় এবার ছবি ধরা পড়লে তা হবে সত্যিই ঐতিহাসিক।