• বেলডাঙা দিয়ে যাবে না কোনও ট্রেন! নিরাপত্তার জেরে কড়া সিদ্ধান্ত পূর্ব রেলের...
    ২৪ ঘন্টা | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • অয়ন ঘোষাল: নিরাপত্তাজনিত কারণে কৃষ্ণনগর–লালগোলা শাখায় আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেল। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই নির্দিষ্ট সেকশনে কোনও ট্রেন চালানো হবে না বলে জানানো হয়েছে রেল সূত্রে।

    ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় রেল অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। শনিবার বিহারে আরেক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ফের একই এলাকায় রেল অবরোধ হয়। টানা এই বিক্ষোভের জেরে রেল চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অভিযোগ, অবরোধ চলাকালীন রেল সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির চেষ্টাও করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই একাধিক লেভেল ক্রসিং ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং রেললাইনের ক্ষতি করার চেষ্টা হয়েছে।

    পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা পর্যন্ত ট্রেন চালানো একেবারেই নিরাপদ নয়। যদি এই অংশ দিয়ে ট্রেন চালানো হয়, তাহলে রেল পরিকাঠামো এবং যাত্রী নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সেই কারণেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লালগোলা সেকশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠান। কীভাবে বিক্ষোভ হয়েছে, কোথায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ট্রেন চালাতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে—সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ইতিমধ্যেই রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে পাঠিয়েছেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রেল পরিকাঠামো সুরক্ষিত করতে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে পাঠানো হচ্ছে অতিরিক্ত সংখ্যক RPF ও RPSF। বিক্ষোভের আঁচ যাতে আর রেল সম্পত্তির উপর না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পূর্ব রেল।

    উল্লেখ্য,  অন্যদিকে বেলডাঙায় জি ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধি সোমা মাইতি আক্রান্তের ঘটনায় শেষমেশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল পুলিস। আজই হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতে পারে পুলিস। প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে বড়েয়া মোড়ে কার্যত রণক্ষেত্রের ছবি দেখা যায়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর শুরু হয় রাস্তা অবরোধ। অভিযোগ, বিহারে এক পরিযায়ী শ্রমিককে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আক্রান্ত শ্রমিকের বাড়ি বড়েয়া মোড় এলাকাতেই। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কালকের পর আজও নিষ্ক্রিয় পুলিস। অবরোধে থমকে যায় জাতীয় সড়কের যান চলাচল। আতঙ্কে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিকদের উপর হামলার পর আজও অন্য এক সাংবাদিক মৃত্যমুখ থেকে বেঁচে ফেরেন।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)