• নিপার ভয় নয়! বাংলার এই গ্রামে বাদুড়ই পরিবারের সদস্য... রক্ষা করা হয় তাদের...
    ২৪ ঘন্টা | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • মৃত্যুঞ্জয় দাস: রাজ্যজুড়ে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। যখন সারা রাজ্য বাদুড়ের নাম শুনলেই শঙ্কিত, ঠিক তখনই বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের এক গ্রাম যেন দাঁড়িয়ে আছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দর্শনে। ওন্দা ব্লকের মাজডিহা গ্রাম- যাকে স্থানীয়রা ডাকেন 'বাদুড়ের স্বর্গরাজ্য'। গ্রামের আনাচে কানাচে, রাস্তার ধারে, বাড়ির উঠোনে- যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই গাছের ডালে ঝুলছে হাজার হাজার বাদুড়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বাদুড়দের সঙ্গেই বেড়ে উঠেছে মাজডিহার মানুষ। গ্রামবাসীদের কাছে বাদুড় শুধু বন্যপ্রাণী নয়, তারা যেন পরিবারেরই একজন।

    বাদুড় বাহিত নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের খবর অজানা নয় এই গ্রামের মানুষের। আতঙ্ক আছে, সচেতনতার কথাও শুনছেন তাঁরা। কিন্তু নিপার ভয়েও শত শত বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজি নন মাজডিহাবাসী।

    গ্রামে কে আগে এসেছিল- মানুষ না বাদুড়, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। তবে সকলের একটাই বিশ্বাস, বাদুড় এই গ্রামেরই বাসিন্দা। তাদের রক্ষা করাই মানুষের দায়িত্ব। সেই বিশ্বাস থেকেই শতকের পর শতক ধরে চোরা শিকারীদের হাত থেকে নিজেরাই বাদুড়দের আগলে রেখেছেন গ্রামবাসীরা। নিজেরা বাদুড় মারা তো দূরের কথা, পাশের কোনও গ্রাম থেকে কেউ বাদুড়কে সামান্য বিরক্ত করতে এলেও রুখে দাঁড়ান মাজডিহার মানুষ। এর ফলেই দিন যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে বাদুড়ের সংখ্যা। আজ গ্রামের গাছে গাছে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে কয়েক হাজার বাদুড়।

    সম্প্রতি নিপা ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ মিলতেই চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা বাদুড়ের দেহরস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য দফতরও সতর্ক থাকার কথা বলছে মাজডিহাবাসীকে। গ্রামবাসীরাও সেই পরামর্শ কানে তুলেছেন- কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা বাদুড়দের ত্যাগ করবে। মাজডিহায় আতঙ্কের চেয়েও বড় বিশ্বাস—সহাবস্থানের বিশ্বাস।

    স্বাস্থ্য দফতরের বার্তা স্পষ্ট- সম্পর্ক অটুট থাকুক, তবে প্রয়োজন সতর্কতা। আর সেই সতর্কতার পথেই হাঁটতে চাইছে বাদুড়ের স্বর্গরাজ্যের মানুষ।

    অন্যদিকে, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ২ নার্স বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন বারাসাতের বেসরকারি হাসপাতালে। নিপা পজিটিভ ওই দুই নার্সিং স্টাফের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। মহিলা নার্সিং স্টাফের ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরছে। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত ভেন্টিলেশনেই রয়েছেন তিনি। ওদিকে পুরুষ নার্সিং স্টাফকে ভেন্টিলেশন থেকে বার করা হয়েছে। তবে তিনিও এখনও পর্যন্ত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছেন।

    এখন আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন, এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেককে হোম কোয়ারেনটিনে পাঠানোয়, চিকিৎসক ও নার্সের অভাব দেখা দিয়েছে। যার ফলে হাসপাতালের পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এই মুহূর্তে জরুরি অপারেশন ও ইমার্জেন্সিতে রোগীর চিকিৎসা ছাড়া আর কোনও কিছুই হচ্ছে না বারাসতের ওই হাসপাতালে। আপাতত সব বন্ধ। আগামী ১৯ তারিখ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)