জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শুক্রবারের রক্তাক্ত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার ফের উত্তাল বেলডাঙা। বড়েয়া মোড়ে কার্যত রণক্ষেত্রের ছবি। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর শুরু হল রাস্তা অবরোধ। অভিযোগ, বিহারে এক পরিযায়ী শ্রমিককে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আক্রান্ত শ্রমিকের বাড়ি বড়েয়া মোড় এলাকাতেই। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কালকের পর আজও নিষ্ক্রিয় পুলিস। অবরোধে থমকে যায় জাতীয় সড়কের যান চলাচল। আতঙ্কে কাঁপছে গোটা এলাকা।
এরই মধ্যে সাংবাদিকদের উপর একের পর এক হামলা ঘিরে উঠছে ভয়ংকর প্রশ্ন। জি ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধি সোমা মাইতি ও চিত্র সাংবাদিক রঞ্জিত মাহাতো আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি একজনও। কেন এই নীরবতা? কীসের এত ভয় পুলিসের? শুক্রবারের পর ফের শনিবার মৃত্যুমুখে আরও এক সাংবাদিক। এবিপি আনন্দের সাংবাদিকদের মার। সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং চিত্র সাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষের প্রাণনাশের জন্য ছুটে আসে উন্মত্ত জনতা। তাঁরা মৃত্যুমুখ থেকে যেভাবে হোক ছুটে বেরিয়ে আসেন।
শনিবার জি ২৪ ঘণ্টার আক্রান্ত প্রতিনিধি সোমা মাইতি এবং রঞ্জিত মাহাতোকে হাসপাতালে দেখতে যান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরি। বেরিয়েই তিনি বলেন, 'নিন্দা করার যদি নির্দিষ্ট কোনও ভাষা থাকত, তাহলে এককথায় বলা যেত। একজন মহিলা পরিচিত হোক বা না হোক। তিনি সাংবাদিক হোক বা না হোক। তিনি একজন মানুষ আবার মহিলা, তাঁকে প্রকাশ্যে দিবালোকে পুলিসের উপস্থিতিতে তাড়া করছে। পুলিসকে বলব যদি মানইজ্জত বোধ বলে কিছু থাকে, বাড়িতে মা-বোন থাকে তাহলে কোনও দিকে না তাকিয়ে সোজা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।'
তিনি আরও বলেন, 'রঞ্জিত একজন ক্যানসার পেশেন্ট। তাকে নির্মমভাবে মেরেছে। এরা জানোয়ারের থেকেও অধম। পুলিস দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একজন মহিলা ও অসুস্থ সাংবাদিককে মার খেতে দিল। আপনারা নিলর্জ্জ, নিন্দা করার কোনও ভাষা নেই। এদের উপর যারা হামলা করেছে, তাদের শাস্তি চাই।' একদিকে রাস্তা অবরোধ, অন্যদিকে সাংবাদিকদের উপর হামলা—বেলডাঙা যেন ক্রমেই পরিণত হচ্ছে আতঙ্কের নামেই। প্রশ্ন একটাই- পুলিস কবে জাগবে?