পিয়ালী মিত্র: নারকেলডাঙা থানার অন্তর্গত শিবতলা লেনে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যু। মৃত তরুণীর নাম পুষ্পা কুমারী, বয়স মাত্র ২২। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার গলায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিস সূত্রে জানা যায়, সন্দেহের তীর পরিবারের সদস্যদের দিকেই।
ঘটনা ঘটে ১৪ জানুয়ারি, দুপুরে। প্রতিবেশীরা পুষ্পাকে ঘরের ভিতরে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তারা খবর দেন তার বাবাকে, রাজ নারায়ণ শাক। বাবা মেয়েকে উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিসের তদন্তে সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, পুষ্পার সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের এক বন্ধুর সম্পর্ক ছিল। ভাই এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারছিল না এবং দিদিকে সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার জন্য চাপ দিত। বন্ধুর সঙ্গেও বিরোধের ঘটনা ঘটে। খুনের আগে ওই ভাইকেই বাড়িতে ঢুকতে দেখা গিয়েছে।
পুলিসের অনুমান, পুষ্পার সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নিতে না পারায় ভাই তার দিদিকে খুন করে পালিয়ে গিয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে আগেও জানা গিয়েছিল, পুষ্পা গত দেড় বছর ধরে শিবতলা লেনের ওই বাড়িতে তাঁর বাবার সঙ্গে ভাড়ায় থাকতেন। মাঝেমধ্যে তাঁর ভাই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা যেত।
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিসের এক কর্মীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতা তরুণী সোনারপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, তিনি একটি আয়া সেন্টারের মাধ্যমে কসবা থানা এলাকার ওই কলকাতা পুলিসের অফিসারের বাড়িতে রান্নার কাজে গিয়েছিলেন। তরুণীর অভিযোগ, বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিস অফিসার পেছন থেকে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে চোরের অপবাদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জোর করে সাদা কাগজে কিছু লিখিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন নির্যাতিতা। তিনি ই-মেল মারফত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যার জেরে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ওই তরুণী।
রক্ষকের ভূমিকায় থাকা পুলিসের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি উঠেছে।