তথাগত চক্রবর্তী: সিটি অফ জয়ে আবার ভয়ের হাওয়া। ফের নির্যাতনের শিকার তরুণী। তবে এবারের অভিযুক্ত কোনও পাড়ার প্রতিবেশী, বন্ধু, পরিচিত বা অপরিচিত নয়। এবারের অভিযুক্ত এক পুলিস কর্মী। কলকাতা পুলিসের এক কর্মীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতা তরুণী সোনারপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, তিনি একটি আয়া সেন্টারের মাধ্যমে কসবা থানা এলাকার ওই কলকাতা পুলিসের অফিসারের বাড়িতে রান্নার কাজে গিয়েছিলেন।
তরুণীর অভিযোগ, বাড়ির অন্য সদস্যরা বাইরে চলে যাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিস অফিসার পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে 'চোরে'র অপবাদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জোর করে সাদা কাগজে কিছু লিখিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন নির্যাতিতা। তিনি ই-মেল মারফত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যার জেরে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ওই তরুণী। রক্ষকের ভূমিকায় থাকা পুলিসের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি উঠেছে।
শুক্রবার নারকেলডাঙা থানার অন্তর্গত শিবতলা লেনে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যু হয়ে। থমথমে পরিস্থিতি এলাকাজুড়ে। মৃত তরুণীর নাম পুষ্পা কুমারী, বয়স মাত্র ২২। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার গলায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আপাতত সন্দেহের তীর পরিবারের সদস্যদের দিকেই। তবে মৃত্যুর নেপথ্যে প্রকৃত কারণ জানতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পুষ্পা গত দেড় বছর ধরে শিবতলা লেনের ওই বাড়িতে তাঁর বাবার সঙ্গে ভাড়ায় থাকতেন। মাঝেমধ্যে তাঁর ভাইদেরও ওই বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা যেত।
পুলিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি দুপুরে প্রতিবেশীরা মেয়েটিকে ঘরের ভিতরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁকে বারবার ডাকাডাকি করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর বিষয়টি তাঁরা মেয়েটির বাবা রাজ নারায়ণ শাকে জানান। পরে তিনি বাড়িতে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রতিবেশীদের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে মেয়েটির এক ভাইকে ওই বাড়িতে আসতে দেখা গিয়েছিল। ঘটনার পর পুলিস ওই ঘরটি সিল করে দেয়।