এই সময়, বর্ধমান: ‘সার’–শুনানিকে কেন্দ্র করে শনিবার তুমুল উত্তেজনা ছড়াল বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমাশাসকের অফিসে। ফর্ম–৭ জমা দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে মুহূতেই এসডিও অফিস চত্বরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার আইসি–সহ অন্য পুলিশকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রহৃত হয়েছেন।
পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা। পরে হাতাহাতি হয় পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের। বিজেপির অভিযোগ, ফর্ম–৭ নিতে অস্বীকার করেন এসডিও। তাদের অভিযোগ, সেখানে আগে থেকেই শাসকদলের কর্মীরা হাজির ছিলেন। এর পরেই দু’পক্ষের স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে এলে তাদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের হাতাহাতি শুরু হয়।
বিজেপির জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে–র অভিযোগ, ‘আমাদের দলের ৫-৬ জনের একটি প্রতিনিধিদল উত্তরের মহকুমাশাসকের কাছে ফর্ম–৭ জমা দিতে গেলে উনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তা জমা নেবেন না। আমরা ওঁকে কমিশনের নির্দেশিকাও দেখাই, আলোচনা করতে থাকি। সেই সময়ে তৃণমূলের একদল লোক ঢুকে অফিসের ভিতরে আমাদের গালাগালি দেওয়ার সঙ্গে হুমকি দিতে শুরু করে। এর পরে আমরা অফিসের বাইরে আসতেই বর্ধমান থানার সাব–ইন্সপেক্টর আসিফ ইকবালের নেতৃত্বে আমাদের উপরে আক্রমণ হয়। মহিলাদের শ্লীলতাহানি করেন ওই এসআই।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘পরে আইসি ও ডিএসপি আমাদের দলের ৫ জনকে ওখান থেকে তুলে নিয়ে যায়। তৃণমূলের কর্মীরা যাতে আমাদের মারধর করতে পারে, সেটা পরিকল্পনা করে দিয়েছিল পুলিশ। আমরা ভিডিয়ো–সহ পুরো বিষয়টি কমিশনের কাছে পাঠিয়েছি।’
তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালিয়েছে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা যখন ওখানে ছিল, সেই সময়ে আচমকা আমাদের ছেলেদের উপরে এসে বিজেপির লোকেরা আক্রমণ করেছে। মারধর করেছে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে পুলিশকেও মারধর করে। থানায় আমরাও অভিযোগ জানিয়েছি দলের পক্ষ থেকে।’
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘উত্তেজনার মুহূর্তে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাদের লক্ষ্য বানিয়ে মারধর করা হয়েছে। আসিফ প্রথমে দু’পক্ষের লোকেদের এলাকা থেকে সরিয়ে দিচ্ছিল। সেই সময়েই ওকে বিজেপির লোকজন ধরে ফেলে। গলা টিপে মারধর করা হয়।’ পরে বিশাল র্যাফ মোতায়েন করা হয় অফিস চত্বরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দু’পক্ষকেই এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। এখনও অবধি এই ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।’