• টায়ার জ্বালিয়ে ক্ষোভ, হয়রানি সাধারণের
    এই সময় | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, কাটোয়া ও বাঁকুড়া: ‘সার’–শুনানির নামে হয়রানি করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মঙ্গলকোটের কুলশুনা, মাথরুন এলাকায় কাটোয়া-নতুনহাট অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়রা। রাস্তায় মাঝখানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। যদিও দুপুরে মঙ্গলকোট ব্লকের যুগ্ম বিডিও, থানার আইসি গিয়ে বুঝিয়ে অবরোধ তোলেন৷

    মঙ্গলকোটের বিডিও অনমিত্র সোম বলেন, ‘গ্রামের বাসিন্দাদের অবেদন আমরা শুনেছি৷ তা জেলা প্রশাসনকে জানাব।’ শুনানির নোটিস পাওয়ার পরে এমনিতেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কারও ছ’জনের বেশি সন্তান থাকলেই শুনানির নামে ডেকে হেনস্থা করা হচ্ছে৷ আবার সাধারণ নামের বানানেপ ভুলের জন্যও ডাকা হচ্ছে শুনানিতে।

    এ দিন মঙ্গলকোটের কুলশুনা গ্রামের বাসস্ট্যান্ডে অবরোধ হয় সকাল থেকেই৷ কাটোয়া-নতুনহাট রোড অবরোধ করে টায়ার জ্বালানো হয়৷ এর ফলে কার্যত সারা দিন নাকাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকেও৷ যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ পাশাপাশি মাথরুন বাসস্ট্যান্ডেও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দার। প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বুথে বুথে শুনানি করার জন্য৷

    অবরোধের জেরে আটকে পড়েন সাধারণ মানুষ। জনৈক বাসিন্দা তাপস গড়াই বলেন, ‘মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম৷ অবরোধের জেরে মোটরবাইক আটকে দেওয়া হয়৷ ছোট মেয়েটাও দুপুর পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়েছিল কিছু না–খেয়ে৷’ মিতালি হাজরা, উদয়চাঁদ হাজরা বলেন, ‘আমরা গঙ্গাস্নানের জন্য কাটোয়া যাচ্ছিলাম৷ অবরোধের জেরে কয়েক ঘণ্টা বাসেই বসে থাকতে হলো৷’

    ‘সার’–শুনানি নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে বাঁকুড়াতেও। শনিবার বিষ্ণুপুরে এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। বিডিও অফিসের সামনে জমায়েত করেন তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা। অবস্থানের পাশাপাশি টায়ার জ্বালিয়ে দেখানো হয় বিক্ষোভ। ছিলেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ এবং অন্য নেতৃবৃন্দ।

    বিধায়ক বলেন, ‘বিজেপি অন্যায় ভাবে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে রাজ্য জুড়ে বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করেছে।মানুষকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। প্রবীণরাও বাদ যাচ্ছেন না। রাজ্য জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই এই প্রতিবাদ আন্দোলন।’

    বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, ‘আরও অন্য রাজ্যে ‘সার’ হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া কোথাও কোনও সমস্যা নেই। ঠিক মতো ভোটার তালিকা তৈরি হলে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকবে না। ফলে ওরা উত্তেজনা তৈরি করছে। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।’

  • Link to this news (এই সময়)