• ‘ডিএ কর্মীদের অধিকার নয়’, হাইকোর্টে জানাল কেরলের বাম সরকার
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • তিরুবনন্তপুরম:  মহার্ঘ্য ভাতা ( ডিএ) সরকারি কর্মচারীদের আইনগত অধিকার নয়। ডিএ দেওয়া বা না দেওয়া পুরোপুরি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। তা রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি এক মামলায় কেরল হাইকোর্টকে একথা জানিয়েছে সেরাজ্যের সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম সরকার। এজন্য দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠেছে  সিপিএমের বিরুদ্ধে।কেরলের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অ-শিক্ষক কর্মী ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বকেয়া ডিএ প্রদানের দাবিতে মামলা করেন। সেই মামলার শুনানিতে আদালতে কেরলের এলডিএফ সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে রাজ্য তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপুল অঙ্কের বকেয়া ডিএ মেটানো সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকার আরও বলেছে, মূল্যবৃদ্ধির সূচকের সঙ্গে ডিএ যুক্ত থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। বাম সরকার আরও বলে, ডিএ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ সীমিত হওয়া উচিত। কারণ এতে রাজ্যের উপর আর্থিক চাপ পড়ে। তবে হাইকোর্ট জানিয়েছে, সরকার সম্পূর্ণভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারে না। ডিএ দেওয়া নিয়ে একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সীমা আদালতের সামনে রাখতে হবে।এরইমধ্যে আদালতে ডিএ নিয়ে দায় এড়ানোয় কেরলের বাম সরকারের সমালোচনায় সরব সরকারি কর্মী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির সময়ে ডিএ কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রাখা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞ মহলের আলোচনায় উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ। বকেয়া ডিএ ইস্যুতে বাংলার শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব বাম সংগঠনগুলিই। সেখানে কেরলের বাম সরকার ডিএ প্রসঙ্গে দায় ঝাড়ার চেষ্টা করছে। এতে সিপিএমের দ্বিচারিতাই ফের বেআব্রু হয়ে গেল বলে মনে করছেন অনেকেই।
  • Link to this news (বর্তমান)