বিজেপির সঙ্গে সিন্ধে-সেনার দর কষাকষি, কাউন্সিলাররা হোটেলে, বিএমসির মেয়র পদ আড়াই বছর করে!
বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
মুম্বই: একনাথ সিন্ধের বিদ্রোহে শিবসেনার প্রতীক ও নাম আগেই খুইয়েছিলেন উদ্ধব থ্যাকারে। প্রায় দু’দশক পর দেশের ধনীতম পুরসভা বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশনও (বিএমসি) হাতছাড়া থ্যাকারে পরিবারের। দীর্ঘ বিবাদ মিটিয়ে ভাই রাজ থ্যাকারের এমএনএসের সঙ্গে হাত মিলিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। এই অবস্থায় বিএমসি দখলের কৌশল হিসেবে এবার কি সিন্ধে শিবিরে প্রত্যাঘাতের চেষ্টায় উদ্ধব? প্রয়াত বালসাহেব থ্যাকারে-পুত্রের মন্তব্য ঘিরে এমনই জল্পনা তুঙ্গে। নিজের শিবসেনা (ইউবিটি) কর্মীদের চাঙ্গা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, আমি চাই মুম্বইয়ের মেয়র হবেন কোনও শিবসৈনিকই। ভগবান চাইলে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হবেই। তাহলে কি বিজেপির শরিক একনাথ সিন্ধে শিবিরকে পালটা ভাঙানোর ছক কষেছেন উদ্ধব? মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য সামনে আসতেই ঘর সামলাতে নেমে পড়েছেন সিন্ধে। জানা যাচ্ছে, উদ্ধব শিবির দল ভাঙাতে পারে, এই আশঙ্কায় নিজের গোষ্ঠীর জয়ী কাউন্সিলারদের বান্দ্রার একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে তুলেছেন সিন্ধে। এরইমধ্যে, বিজেপির সঙ্গে মেয়র পদ নিয়ে সিন্ধের শিবসেনার দর কষাকষির খবরও সামনে এসেছে। বিএমসির এবারের ভোটে বিজেপি বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও সিন্ধে সেনা মেয়র পদ আড়াই বছর করে ভাগাভাগির দাবি জানিয়েছে বলে খবর।প্রয়াত বালাসাহেব থ্যাকারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে এই পদ নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া সিন্ধে গোষ্ঠী। ফলে বিজেপির সঙ্গে এই ইস্যুতে তাদের চাপা উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ২২৭ সদস্যের বিএমসিতে বিজেপি জিতেছে ৮৯টি ওয়ার্ডে। সিন্ধের শিবসেনার ২৯ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সবমিলিয়ে দুই শরিকের দখলে এসেছে ১১৮ ওয়ার্ড। সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে মাত্র ৪ জন বেশি। ফলে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি-সিন্ধে জোট বিএমসি দখল করলেও জয়ের বহর খুব বেশি নয়। শিবসেনার সিন্ধের অংশে সামান্য ভাঙান ধরানো গেলেই খেলা হাতের বাইরে চলে যেতে পারে গেরুয়া শিবিরের। শেষ মুহূর্তে তাই ‘বাড়তি সতর্কতা’ হিসাবেই জয়ী কাউন্সিলারদের বান্দ্রার হোটেলে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিন্ধেসেনার এক নেতা।