সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: প্রথম বছরের মতো এবারও জাঁকজমকভাবে শুরু হল গঙ্গারামপুর পুর উৎসব। সেখানে শহরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। শনিবার সকালে গঙ্গারামপুর শহরের নিউ মার্কেট মাঠ থেকে পুর উৎসবের প্রভাতফেরি শুরু হয়। ব্যানার, ফেস্টুন, নজরকাড়া ট্যাবলো সহ প্রভাতফেরি শহর পরিক্রমা করে ফুটবল মাঠে এসে শেষ হয়। প্রভাতফেরিতে শহরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ক্লাব ও এনসিসি টিম অংশগ্রহণ করে। প্রভাতফেরিতে বিশেষ আকর্ষণ ছিল, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রচার। শহরের খুদেরা মডেল সেজে রূপশ্রী প্রকল্প, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পের বিষয়ে সচেতনতার বার্তা তুলে ধরে।ফুটবল মাঠে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে গঙ্গারামপুর পুর উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। একইসঙ্গে গঙ্গারামপুর পুরসভার দ্বিতীয় স্মরণিকার আনুষ্ঠানিক প্রকাশও করা হয়। অনুষ্ঠানে একাধিক জনপ্রতিনিধি, পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।পুর উৎসব উপলক্ষ্যে গঙ্গারামপুর ফুটবল মাঠে প্রায় ১৫টি স্টল খোলা হয়েছে। সেখানে শহরের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তাঁদের হাতে তৈরি সামগ্রী বিক্রি করছেন। খাবারেরও দোকান দিয়েছেন।উৎসবের মঞ্চ থেকে পুরসভার চেয়ারম্যান শহরের উন্নয়ন ও পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। শহরের প্রবীণ নাগরিক ও পুরকর্মীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। চারদিন ধরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় কৃতীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। আগামী দু’দিন ধরে স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান হবে। শহরের উন্নয়ন ও নাগরিক সমাজকে নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনাও থাকছে।পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত বলেন, দ্বিতীয় বছরে পা রাখলেও পুর উৎসব ঘিরে শহরবাসীর যে উন্মাদনা দেখা গেল, তা সত্যিই চোখে পড়ার মতো। প্রভাতফেরি থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শহরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই উৎসবের সাফল্য নিশ্চিত করেছে। আগামী দিনে শহরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব।মন্ত্রী বিপ্লব বলেন, গতবছর শহরবাসীর অংশগ্রহণ দেখেছিলাম। এবছর সেই উন্মাদনা আরও বেড়েছে। পুরসভার এই উদ্যোগে কর্মী থেকে জনপ্রতিনিধি সকলেই অংশ নিয়েছেন। রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাক, এটাই কাম্য। নিজস্ব চিত্র