কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন উদ্বোধন, ৬২ বছরের প্রত্যাশা পূরণ, উচ্ছ্বাসে মাতল জলপাইগুড়ি
বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের দাবিতে জলপাইগুড়িতে প্রথম আন্দোলন শুরু হয় ১৯৬৩ সালে। তারপর তিস্তা-করলা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। কখনও দিনের পর দিন আন্দোলনে তপ্ত হয়েছে শহর। আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা চেপেছে ঘাড়ে। কখনও আবার হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ জলপাইগুড়িতে নাকি শিলিগুড়িতে কোথায় হবে, তা নিয়ে চলেছে ঠান্ডা লড়াই। দীর্ঘ টানাপোড়েন। রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১২ সালে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের শিলন্যাস হয় জলপাইগুড়িতে। স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে জলপাইগুড়ির পাহাড়পুরে জমি অধিগ্রহণ শুরু করে রাজ্য সরকার। সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন নির্মাণে ৫০১ কোটি টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য। কিন্তু শিলান্যাসর পর স্থায়ী ভবনের নকশা সহ নানা জটিলতায় নির্মাণকার্য শুরু হতে সময় লেগে যায়। এরইমধ্যে ২০১৯ সালে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় অস্থায়ী পরিকাঠামোয় চালু হয় হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ। কিন্তু জলপাইগুড়িবাসীর অপেক্ষা ছিল সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন কতদিনে চালু হবে। অবশেষে পূরণ হল সেই প্রত্যাশা। ৪০ একর জমির উপর বিশাল পাঁচতলা ভবন তৈরি হয়েছে। এখানে থাকছে ১৩টি এজলাস। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নয়া ভবনে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে খবর।আক্ষরিক অর্থেই জলপাইগুড়ির ইতিহাসে নয়া মাইল স্টোন ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি। হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন করলেন দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সঙ্গে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল সহ সুপ্রিম কোর্ট এবং বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিরা। স্বপ্ন পূরণের আনন্দে শনিবার উচ্ছ্বাসে মাতেন জলপাইগুড়িবাসী। আমন্ত্রণপত্র ছিল সীমিত। ফলে যাঁরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে পারেননি, তাঁরা চোখ রেখেছিলেন শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার তরফে বসানো এলইডি স্ক্রিনে। শহরের ১২টি জায়গায় ওই স্ক্রিন বসানো হয়েছিল। বহু মানুষ আবার পাহাড়পুরে জাতীয় সড়কের ধারে দিনভর অপেক্ষা করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে ভিভিআইপিরা বেরিয়ে যেতেই কার্যত বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে তাঁরা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন দেখতে এগিয়ে আসেন। তেরঙা আলোয় উদ্ভাসিত ওই ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। ঐতিহাসিক দিনে নিজেকে ফ্রেমবন্দি করে রাখতে সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের সামনে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতরাও ছবি তোলার সুযোগ হাতছাড়া করেননি।এদিন সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন প্রাক্তন সাংসদ জিতেন দাস। জলপাইগুড়িতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ নিয়ে ষাটের দশকে শুরু হওয়া আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন তিনি। বলেন, ১৯৬৩ সালে আন্দোলন শুরু হয়। আমরা ১৯৯৪ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে এনিয়ে দেখা করি। একসময় হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু জলপাইগুড়ির মানুষ তাদের জোরালো দাবি থেকে সরেনি। জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক রাহুল ভৌমিক বলেন, এদিন রাতে আমরা শহরে অকাল দীপাবলি পালন করেছি। হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ হওয়ায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে জলপাইগুড়ি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করি। • নিজস্ব চিত্র।