• ইচ্ছাকৃত বদনাম করছে এজেন্সি, গণতন্ত্র ও সংবিধান বিপন্ন, প্রধান বিচারপতির সামনে বিস্ফোরক মমতা
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: বিরোধীদের কণ্ঠরোধে ব্যবহার করা হচ্ছে নানা কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। এই অভিযোগ তুলে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও তা রাজনৈতিক পরিসরে, কখনও সমাজমাধ্যমে, আবার কখনও আম জনতার দরবারে। কিন্তু শনিবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন বঙ্গ সফরে, ঠিক সেদিনই ফের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মমতা। তাও আবার কলকাতা হাইকোর্টের নবনির্মিত উত্তরবঙ্গ সার্কিট বেঞ্চ ভবনের উদ্বোধনে জলপাইগুড়িতে আসা দেশের প্রধান বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বদনাম করছে এজেন্সি। এটা করানো হচ্ছে। সম্মানহানি করা হচ্ছে। এজেন্সি দিয়ে অপমান করাটা ইদানীং ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।’ রাজ্যের যে-কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে যেভাবে মিডিয়া ট্রায়াল চলছে, তা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও সরব হন তিনি। তাঁর সাফ কথা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে অপমান ও অপদস্থ করা গণতন্ত্রের পক্ষে মারাত্মক বিপদ। এ প্রসঙ্গে মমতা আরও বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান বিপন্ন। সাধারণ মানুষ বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা রাখে। বিচারব্যবস্থা আমাদের সংবিধানের রক্ষাকর্তা। দেশের মানুষকে রক্ষা করাও বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব।’গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূলের নীতি নির্ধারক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দপ্তরে হানা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই ‘অভিযান’ নিয়েই এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে কার্যত নালিশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন, তল্লাশির নামে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা, নির্বাচনি রণকৌশল সহ নানা গোপন তথ্য হাতাতে চাইছে ইডি। তবে এজেন্সির এহেন তৎপরতা বৃদ্ধি যে শুধু তাঁর বা তাঁর দলের ক্ষেত্রেই হচ্ছে না। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রধান বিচারপতির কাছে মমতার আর্জি, ‘আমি আমার জন্য বলছি না। দেশের মানুষের হয়ে বলছি—সংবিধান বাঁচান, গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন। জনগণকে রক্ষা করুন। দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচান।’ মঞ্চে তখন দেশের প্রধান বিচারপতি সহ একঝাঁক ন্যায়াধীশ। তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘সংবিধানকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের।’ ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীকে নিশানা করে এজেন্সির অপব্যবহারে যে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়, সেটাই ছিল মমতার বক্তব্যের নির্যাস। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা যেন একতার পক্ষে কথা বলি। কোনও ধর্মীয় কিংবা জাতপাতের ভিত্তিতে যেন ভেদাভেদ না থাকে।’সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালকেও এদিন অস্বস্তিতে ফেলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘কেন্দ্র বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, তা বলে আমরা থেমে যাইনি। ঠিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’ বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো নির্মাণে রাজ্য সরকার কী কাজ করেছে, তার খতিয়ানও এদিন তুলে ধরেন মমতা। বলেন, ‘৪০ একর জমির উপর কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন নির্মাণে রাজ্য সরকার ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করেছে। এছাড়া রাজ্যজুড়ে বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো তৈরিতে আমরা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই খরচ করেছি। হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন জলপাইগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গবাসীর কাছে একটা ঐতিহাসিক দিন!’ অনুষ্ঠান শেষে এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জলপাইগুড়িতে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চে যাতে উত্তরবঙ্গের সব জেলার মামলার শুনানি হয়, তার আবেদন এসেছে। আমরা বিষয়টি দেখছি।’
  • Link to this news (বর্তমান)