• এসআইআরে উধাও, অনুপ্রবেশকারী আছে শুধু মোদির ভাষণেই!
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সন্দীপন দত্ত, মালদহ: পদ্মপার্টির নেতাদের গরমাগরম বক্তৃতা আর প্রচারে তো ছিলই! অনুপ্রবেশ তত্ত্ব ঝড় তোলে সমাজমাধ্যমেও! জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে, এমন আশঙ্কাও সামনে আসছিল। তারপর শুরু হয় স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)। সেই পর্বের আড়াই মাস পেরিয়েছে, কিন্তু এখন ‘লা-পাতা’ এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী! এসআইআরে না মিললেও, শনিবার মালদহে বিজেপির সভামঞ্চে সেই ‘লা-পাতা’দের হদিশ দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর কথায়, ‘বাংলার সামনে অনুপ্রবেশ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যারা অনুপ্রবেশ করছে, তারা গরিব মানুষের কাজ, চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। মা-বোনেদের উপর অত্যাচার করছে। দেশে আতঙ্ক আর অন্যান্য অপরাধ ঘটাচ্ছে।’ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকায় ‘অনুপ্রবেশ’ করা ভারতীয়দের ‘হাতকড়া’ পরিয়ে বিমানে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মোদি সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি তখন মেলেনি। এদিন মালদহে অবশ্য তা মিলেছে। আমেরিকার নাম না করে মোদি বলেছেন, ‘দুনিয়ার সবথেকে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ, যেখানে পয়সার কোনো অভাব নেই, তারাও নিজেদের দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দিচ্ছে। আসলে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোটা জরুরি।’তাঁর প্রতিশ্রুতি—‘কথা দিচ্ছি, বিজেপি এখানে সরকার গঠনের পর অনুপ্রবেশ এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ এসআইআর পর্বে অনুপ্রবেশকারীদের হদিশ না মিললেও এদেশে শরণার্থী, এমন লক্ষ লক্ষ মতুয়া ও নমঃশূদ্র মানুষের হদিশ মিলেছে। তাঁদের নাম বাদও পড়তে চলেছে ভোটার তালিকা থেকে। এর আগে তাহেরপুরের সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নিলেও, মতুয়াদের শঙ্কামুক্ত হতে পারে, এমন কিছুই বলেননি মোদি। এদিন অবশ্য যা বলেছেন, তা ‘চর্বিতচর্বণ’ই। গত ১১ বছরের বেশি সময় ধরে গেরুয়া শিবিরের প্রতিটি স্তর থেকে রুটিন আকারে বলে আসা কথাই শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। তিনি বলেছেন, ‘শরণার্থী মতুয়া ও নমঃশূদ্র মানুষের ভয় নেই। ধর্মের কারণে সৃষ্টি হওয়া হিংসা থেকে বাঁচতে যাঁরা এদেশে এসেছেন, তাঁরা নিশ্চিন্তে থাকুন। সিএএ’র মাধ্যমে নাগরিকত্ব মিলছে, মিলবে।’ সেটা কবে? প্রশ্ন কিন্তু রয়েই গেল।
  • Link to this news (বর্তমান)