• পুর চেয়ারম্যান পদে শপথ নিয়েই শহরের উন্নয়নে নজর সুরজিতের, ভাইস চেয়ারপার্সন হলেন মুনমুন
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বালুরঘাট: অবশেষে বালুরঘাট পুরসভায় নতুন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচন হল শনিবার। অশোক মিত্রের ছেড়ে যাওয়া চেয়ারে বসলেন সুরজিত্ সাহা। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুরজিত্।  ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা সুরজিতের উপরই আস্থা রাখল তৃণমূল কংগ্রেস। একইসঙ্গে ভাইস চেয়ারপার্সন হয়েছেন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মুনমুন কর। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারপার্সন দৌড়ে সবার থেকে এগিয়ে ছিলেন সুরজিত্ ও মুনমুনই, তা কয়েকদিন আগেই ‘বর্তমান’-এ প্রকাশিত হয়েছিল। শনিবার সেই খবরেই সিলমোহর পড়ল। দু’জনই বালুরঘাট মহকুমা শাসক সুব্রত কুমার বর্মন এবং পুর এগজিকিউটিভ অফিসার অজয়কুমার প্রসাদের উপস্থিতিতে শপথ নেন। সুরজিত্ শপথ নেওয়ার পরই তাঁর অনুগামীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।তবে চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগে এবং শপথ গ্রহণের পরে পুরসভায় এদিনও চলে একপ্রস্থ নাটক। দলীয় সূত্রে খবর, শনিবার সকালেই তৃণমূল জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল এবং টাউন সভাপতি সুভাষ চাকীর কাছে রাজ্য থেকে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারপার্সনের নাম এসেছিল। সেইমতো আগেই পুরসভাতে বৈঠক করে জানিয়ে দেয় দলীয় নেতৃত্ব। তবে ওই বৈঠকের পরেই অশোকপন্থী এক বর্ষীয়ান কাউন্সিলার, টাউন সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। পাল্টা টাউন সভাপতিও বাকবিতন্ডায় জড়ান। দুই  নেতার মধ্যে প্রবল বচসা হয়। পরিস্থিতি সামাল দেন জেলা সভাপতি। পরে অবশ্য  প্রশাসনিক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন সমস্ত কাউন্সিলার। নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা হতেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান অশোক মিত্র এবং তাঁর পক্ষের কাউন্সিলাররা। পরে নতুন চেয়ারম্যানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন অশোক। কিন্তু শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অশোকপন্থী কাউন্সিলারদের  দেখা যায়নি। বিদ্রোহী কাউন্সিলারদের একাংশকেও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। অনেকেরই মুখ ভার ছিল। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরসভাতেই বসেছিলেন দলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল। তিনি বলেন, দলীয় নির্দেশেই নতুন চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছে। দুই কাউন্সিলারের মধ্যে বচসা প্রসঙ্গে জেলা সভাপতি বলেন, একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। আমি দু’জনকেই বিরত করেছি। পরে সব মিটে গিয়েছে।চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে সুরজিৎ বলেন, অসমাপ্ত কাজগুলি দ্রুত শেষ করব। শহরবাসীর জন্য কাজ করব। রাস্তাঘাট থেকে শহরের উন্নয়ন এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন পরিকাঠামো নিয়ে কাজ করব। একই বক্তব্য ভাইস চেয়ারপার্সন মুনমুনেরও। তিনিও বলেন, শহরের উন্নয়নের জন্য কাজ করব। এবিষয়ে সদর মহকুমা শাসক সুব্রত কুমার বর্মন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)