• রামপুরহাটে এসআইআর নিয়ে তৃণমূল ও সিপিএমের প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনা
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এসআইআরের হয়রানির প্রতিবাদে তৃণমূল ও সিপিএমের বিক্ষোভে রামপুরহাটে উত্তেজনা ছড়ায়। শনিবার রামপুরহাট-১ বিডিও অফিসের সামনে ঘণ্টাখানেক ধরে দুই দলের বিক্ষোভ, মাইক বাজিয়ে একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা চলে। দু’দলই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে বিপুল সংখ্যক মানুষকে নোটিস দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামেন রামপুরহাটের এসডিপিও, আইসি সহ পুলিশ আধিকারিকরা। এসবের মধ্যেও শুনানিতে এসে প্রবীণ ও অসুস্থদের হয়রানি অব্যাহত থেকেছে।এদিন দুপুরে মিছিল করে বিডিও অফিসের সামনে আসেন সিপিএমের নেতা-কর্মীরা। ‘খাতুন’ বিয়ের পর ‘বিবি’ হওয়া সন্দেহজনক-এমনই বিভিন্ন কথা তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল। পুলিশ তাদের বিডিও অফিসে ঢুকতে বাধা দিলে গেটের সামনেই মাইক্রোফোন হাতে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন পাশেই দলীয় সহায়তা শিবিরে ছিলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরাও দলীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুরু হয়ে যায় দুই দলের রেষারেষি। সিপিএম কর্মীদের পিছনে ফেলে বিডিও অফিস চত্বরে ঢুকে বিক্ষোভ শুরু করে তৃণমূল। যদিও পরে রামপুরহাটের এসডিপিও গোবিন্দ সিকদার ও আইসি পুলক মণ্ডলের অনুরোধে তৃণমূল কর্মীরা অফিস চত্বর থেকে বেরিয়ে আসেন। ফের গেটের সামনেই মাইক বাজিয়ে একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা চলে।সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব বর্মন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন তিনি জীবিত থাকতে এরাজ্যে এসআইআর হবে না। কিন্তু, এসআইআর হচ্ছে। এখানে ওরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। পাশেই খুলে রেখেছে সহায়তা শিবির। দিদি-মোদির নাটক মানুষ জেনে গিয়েছে। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নীহার মুখোপাধ্যায় বলেন, এসআইআরের নামে মানুষকে বারবার ডেকে হয়রান করা হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। সিপিএম তো আমাদের বিরুদ্ধে বলবেই। কিন্তু, এই এসআইআরের পিছনে তো আছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে অসুস্থদের হয়রানি অব্যাহত থেকেছে। শুনানির নোটিস হাতে এদিন স্ত্রীর সঙ্গে বিডিও অফিসে এসেছিলেন ৭৫বছরের বৃদ্ধ। তিনি অবসরপ্রাপ্ত রেল আধিকারিক। পুলিশকর্মীরা তাঁকে ধরে ধরে অফিস চত্বরে একটি চেয়ারে বসান। ম্যাপিং না হওয়ায় ওই বৃদ্ধকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, আমি অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। সেভাবে চলাফেরা করতে পারি না। শুনানির নোটিস পেয়ে আসতে বাধ্য হলাম। কিন্তু, অসুস্থদের তো বাড়িতেই শুনানি হওয়ার কথা? এর উত্তরে বৃদ্ধ বলেন, বিএলও কিছু জানাননি। এদিন মুরারই-১ ব্লকেও এসআইআরে হয়রানির প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাতে এলাকার তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের দেখা গিয়েছে। পরে তাঁরা বিডিওকে ডেপুটেশন দেন। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিপ্লব শর্মা বলেন, সামান্য এ’কার, ও’কার ভুলের জন্যও প্রচুর মানুষকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাই বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসআইআর করার দাবি জানিয়েছি। নলহাটি-২ ব্লকেও বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ দেখান।
  • Link to this news (বর্তমান)