• সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথপিছু প্রায় ৪০০-৫০০ ভোটারকে নোটিস
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথে রেকর্ড সংখ্যক ভোটার এসআইআরের নোটিস পাচ্ছেন। কোথাও ৪৫০, আবার কোথাও ৫৫০ ভোটার ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে নোটিস পেয়েছেন। এনিয়ে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে উঠেছে। তৃণমূলের তরফে এ ব্যাপারে বিডিও অফিসে ডেপুটেশনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির কারসাজি আছে বলে তৃণমূলের দাবি। শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে ৪২ হাজার ভোটারকে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অন্য কোনও ব্লকে এত বেশি সংখ্যক ভোটার নোটিস পাননি। শুনানি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে শুধুমাত্র ওই ব্লকে আরও ২৭জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার(এইআরও) নিয়োগ করা হয়েছে।মহম্মদপুর ৫৭নম্বর বুথে মোট ভোটার ১২০৯জন। তার মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ১২০০। ওই বুথের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটার হিসেবে নোটিস পেয়েছেন ৫৬০জন। ওই বুথের বিএলও জিয়াউর রহমান বলেন, ৯৫শতাংশ নোটিস ধরানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই। কারণ, দু’-তিন সন্তানের লিঙ্ক থাকা সত্ত্বেও ছয়ের অধিক লিঙ্ক দেখিয়ে নোটিস এসেছে। এধরনের ঘটনা ভুরিভুরি হচ্ছে। যেকারণে ভোটাররা বিরক্ত। আমরাও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ৬৩নম্বর মহম্মদপুর বুথে মোট ভোটার ৮৯০জন। ৯০শতাংশের বেশি ভোটার সংখ্যালঘু। ওই বুথে মোট ৪২৭জন নোটিস পেয়েছেন বলে বিএলও সাবির মহম্মদ জানান। ওই বুথের ভোটার আসাদ আলি রুটি ফেরি করে সংসার চালান। তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। চার সন্তানের লিঙ্ক তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকেই করা হয়েছে। অথচ, ছয় সন্তানের সঙ্গে লিঙ্ক করা হয়েছে বলে আসাদ সাহেব নোটিস পেয়েছেন। বিএলও সাবির সাহেব বলেন, যাঁদের নোটিস ইস্যু করা হয়েছে তাঁদের অধিকাংশের পাওয়ার কথাই নয়। কিন্তু কোথাও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এভাবে পাইকারিভাবে নোটিস ইস্যু হয়ে যাচ্ছে।হাজরাকাটা ৬০নম্বর বুথে মোট ১২৫২জন ভোটারের মধ্যে ৪১০জন নোটিস পেয়েছেন। ওই বুথের বিএলও শেখ ইয়াসিন মহম্মদ বলেন, ৩৫-৪০জনকে বাদ দিলে সকল ভোটার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। হাজরাকাটা গ্রামের তানজিলা খাতুনের চারটি সন্তান রয়েছে। অথচ ২০০২ সালের ভোটার লিস্টের সঙ্গে ছ’জনের লিঙ্ক করা হয়েছে বলে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। কীভাবে এমনটা হচ্ছে, সেটা নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি আমরাও ধোঁয়াশায় রয়েছি।কেন্দামারি-জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। ওই পঞ্চায়েত এলাকায় সাড়ে আট হাজার ভোটার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি হিসেবে নোটিস পেয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা নন্দীগ্রাম-১ ব্লক কোর কমিটির সদস্য শেখ সাহাবুদ্দিন বলেন, আমি ক’টি সন্তান নেব, সেটা কি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ঠিক করে দেবে? বিজেপি এইসব ঘটনা নিয়ে কলকাঠি নাড়ছে। সেজন্য সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বেশি করে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। এনিয়ে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আমরা দলের পক্ষ থেকে শুক্রবার নন্দীগ্রাম-১ বিডিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তাঁর অফিসে এনিয়ে ডেপুটেশন দেব। বিডিওর কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, এসআইআরের কাজ নির্বাচন কমিশন করছে। এর সঙ্গে বিজেপিকে জড়িয়ে তৃণমূল মূর্খতার পরিচয় দিচ্ছে।নন্দীগ্রাম-১ বিডিও নাজিরুদ্দিন সরকার বলেন, আমাদের ব্লকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ৪২ হাজার ভোটারকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)