• বড়জোড়ায় হাতির হানায় বিঘার পর বিঘা ফসল নষ্ট, বিক্ষোভ চাষিদের
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শুক্রবার রাতে বড়জোড়ার ছান্দার অঞ্চলের গোঁসাইপুর এলাকায় হাতির হানায় বিঘার পর বিঘা রবি ফসল তছনছ হয়ে গিয়েছে। হাতির পায়ের চাপে গম, সরষে খেত কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। স্থানীয় চাষিরা এদিন বড়জোড়া রেঞ্জের অন্তর্গত সংগ্রামপুর বিট অফিসে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। বনদপ্তর ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। উল্লেখ্য, শুক্রবারই হাতি-মানুষ সংঘাত এড়াতে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করেছিল বাঁকুড়া বনদপ্তর। বাঁকুড়া উত্তরের ডিএফও জে শেখ ফরিদ বলেন, সংগ্রামপুর এলাকায় ছ’টি হাতি রয়েছে। সেগুলি জঙ্গল থেকে বের হয়ে চাষের খেতে হামলা চালাচ্ছে। সরকারি নিয়ম মেনে চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বনকর্মীরা হাতিগুলিকে চাষের খেত ও লোকালয় থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।স্থানীয় বাসিন্দা প্রসেনজিৎ হালদার, সৃষ্টিধর মণ্ডল বলেন, প্রায় দিনই হাতির পাল ফসলের খেতে হানা দিচ্ছে। গোঁসাইপুর, বাঁকুড়ার ডাঙা সহ আশাপাশের গ্রাম ও সংলগ্ন কৃষিজমিতে হাতির দল তাণ্ডব চালাচ্ছে। তারফলে আমাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে। এর আগেও আমরা বনদপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু, প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলেনি। বারবার একই ঘটনা ঘটছে। সেজন্য এদিন চাষিরা জড়ো হয়ে রেঞ্জ অফিসের সামনে বেশ কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভ দেখান। রেঞ্জ অফিসের আধিকারিকরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় বিক্ষোভ বন্ধ হয়। এই পরিস্থিতির বদল না হলে আগামী দিনে ফের আন্দোলন হবে। সরকার থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা কম দেওয়া হয়। ক্ষতিপূরণ চায় না। বনদপ্তর হাতির হামলা আটকানোর ব্যবস্থা করলেই হবে। বনদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেও বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের অন্তর্গত বড়জোড়ার জঙ্গলে ৬৫টি হাতি ছিল। তারমধ্যে বেশিরভাগ হাতি দলমায় ফিরে গিয়েছে। কিছু হাতি এখনও সেখানে রয়ে গিয়েছে। হাতিগুলি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বড়জোড়া, বেলিয়াতোড়, সোনামুখীর জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারফলে সেগুলির উপর নজর রাখা মুশকিল হচ্ছে। ওই হাতিগুলিই লোকালয় ও চাষের খেতে হামলা চালাচ্ছে।  ক্ষতিপূরণের দাবিতে বড়জোড়া রেঞ্জের সংগ্রামপুর বিট অফিসে গোস্বামী পুর গ্রামের বাসিন্দাদের ক্ষোভ। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)