• ‘নোংরা মেয়ে’ বলার পরও কেন ওয়াসেফের সঙ্গে হাঁটতে গেলেন নির্যাতিতা: প্রশ্ন আইনজীবীর
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: ‘নোংরা মেয়ে’ বলার পরেও বন্ধু ওয়াসেফের সঙ্গে নির্জন রাস্তায় কেন হাঁটতে গেলেন নির্যাতিতা। দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডের সাক্ষ্যদান পর্বে প্রশ্নের মুখে পড়লেন নির্যাতিতা ডাক্তারি পড়ুয়া। শনিবার দুর্গাপুর আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠকের এজ্লাসে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের পড়ুয়াকে। শুক্রবার থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছে। প্রথম দিন সরকারি আইনজীবীর প্রশ্নের উত্তর দেন নির্যাতিতা। সেখানেই তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে হওয়া নির্যাতনের অন্যতম দায়ী তাঁর সহপাঠী বন্ধু ওয়াসেফ আলিও। শনিবার দীর্ঘক্ষণ ধরে সরকারি আইনজীবীর প্রশ্নের উত্তর দেন নির্যাতিতা। এদিন  শুনানির শেষপর্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের জেরার মুখে পড়েন তিনি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ এদিন এজলাসে মেডিক্যাল কলেজের গেটের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে, ঘটনার পর নির্যাতিতা ও তাঁর সহপাঠী অভিযুক্ত বন্ধু ওয়াসেফ একসঙ্গে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকছেন। এদিন অভিযুক্তের আইনজীবীরা জেরার সময় নির্যাতিতা ডাক্তারি পড়ুয়ার সঙ্গে তার সহপাঠীবন্ধু ওয়াসেফ আলির হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নিয়ে আলোচনা করেন। অভিযুক্তদের আইনজীবীদের দাবি, ১০ অক্টোবর, নির্যাতনের ঘটনার দিন ওয়াসেফের সঙ্গে নির্যাতিতার হোয়াটসঅ্যাপে দীর্ঘ চ্যাট হয়। সেদিন দু’জনেরই পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দেওয়ার পর সন্ধ্যায় ওয়াসেফ সহপাঠী বান্ধবীকে ফুচকা খেতে আমন্ত্রণ করে। বাইরে ফুচকা খেতে যেতে অস্বীকার করেন নির্যাতিতা। ওয়াসেফ তখন অন্য বন্ধুর সঙ্গে ফুচকা খেতে যায়। হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতিতাকে সেই খবর দেয়। আইনজীবীদের দাবি, নির্যাতিতা তখন হোয়াটসঅ্যাপে রিপ্লাই করে আমাকে না নিয়ে ফুচকা খেতে গিয়েছিস, পেটে ব্যথা হবে। এরপরই ওয়াসেফ পাল্টা নির্যাতিতাকে ‘গন্দি লেড়কি’ বলে উত্তর দেয়।‘নোংরা মেয়ে’ শব্দটি আদালত চত্বরে ব্যবহার হতেই আপত্তি জানান সরকারি আইনজীবী। এ নিয়ে এজলাসে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। ‘ক্লোজ ডোর’ এজলাসের বাইরেও আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে। ওয়াসেফ আলির আইনজীবী শেখর কুণ্ডু নির্যাতিতাকে প্রশ্ন করেন, ঘটনার দিন ওয়াসেফ আপনাকে ‘নোংরা মেয়ে’ বলার পরেও কেন আপনি ওর সঙ্গে নির্জন রাস্তায় হাঁটতে গেলেন? নির্যাতিতা জানান, ‘নোংরা মেয়ে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তারপরই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কপি অভিযুক্তের আইনজীবীরা তুলে ধরেন। তখন নির্যাতিতা চুপ ছিলেন। অভিযুক্তের আইনজীবী বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওয়াসেফ নির্যাতিতাকে নোংরা মেয়ে বলে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে। তারপরেও কেন তিনি রাতে নির্জন রাস্তায় ওয়াসেফের সঙ্গে হাঁটতে গেলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছি। ‘নোংরা মেয়ে’ শব্দ ব্যবহার করা নিয়েই এজলাসে বাদানুবাদ হয়। প্রসঙ্গত, গত বছর ১০ অক্টোবর প্রথম বর্ষের দুই ডাক্তারি পড়ুয়া দুর্গাপুরের মোহনবাগান সারণী দিয়ে মেডিকেল কলেজের বাইরে যান। পার্শ্ববর্তী জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় যেতেই নির্যাতিতা দুষ্কৃতীদের খপ্পড়ে পড়েন বলে অভিযোগ। পরবর্তীকালে নির্যাতিতা তাঁর সহপাঠী ওয়াসেফের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন। পুলিশ এই ঘটনায় ডাক্তারি পড়ুয়া সহ ৬জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব চলছে লোকেশ পাঠকের এজলাসে।
  • Link to this news (বর্তমান)