ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার ‘লিমিটেশন’ উঠল, নতুন ‘সিদ্ধান্ত’ কমিশনের
বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ফরম-৭ জমা দেওয়ার ‘লিমিটেশন’ তুলে নিল নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে একজন ‘ইলেকটর’ নিজের ইচ্ছেমতো এই ফরম জমা করতে পারবেন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও লিমিটেশন নেই। আগে বলা হয়েছিল, কোনও সংগঠন একসঙ্গে বেশি সংখ্যক ফরম জমা করতে পারবেন না। বিএলএরা ১০টি করে ফরম-৭ জমা করতে পারবেন। সেই সিদ্ধান্ত আচমকাই বদলে ফেলেছে কমিশন। তৃণমূলের দাবি, বিজেপিকে খুশি করতেই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাম বাদ দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। এই ফরম জমা করার শেষ দিন ছিল ১৫ জানুয়ারি। তা বাড়িয়ে ১৯ তারিখ করা হয়েছে। সঙ্গে বাড়তি সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিজেপি টার্গেট পূরণ করতে পারেনি। সেই কারণে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ মানতে চায়নি। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন বাস্তবটা বুঝতে পেরেছে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও ব্যক্তি একসঙ্গে পাঁচজনের নামে অভিযোগ করলে ইআরও তা যাচাই করবেন। বিএলএরাও আপত্তি জানাতে পারবেন। যাঁদের নামে অভিযোগ জমা পড়বে, তাঁদের প্রত্যেককে শুনানিতে ডাকা হবে। অনলাইনে অভিযোগ করলেও একই নিয়ম কার্যকর করা হবে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি জেলা নেতৃত্বকে ফরম-৭ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেইমতো শনিবার থেকে বিভিন্ন জেলার নেতারাই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন। বৈধ ভোটারদের নাম যাতে বাদ না যায়, তারজন্য তৃণমূলও শুনানি কেন্দ্রগুলিতে পাহারা দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।পূর্ব বর্ধমানে শুক্রবার পর্যন্ত নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্রায় ২০০টি আবেদন জমা পড়েছিল। শনিবার বিজেপি নেতারা কয়েকশো ফরম বর্ধমানে মহকুমা শাসকের অফিসে জমা করতে যান। তৃণমূল বাধা দেয়। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি বেধে যায়। বর্ধমান শহরের তৃণমূলের সভাপতি তন্ময় সিংহরায় বলেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে যেটা করতে বলছে, সেটাই করছে। মানুষ ভোটার তালিকায় নাম রাখার জন্য তীব্র শীতেও লাইনে দাঁড়াচ্ছে। আর বিজেপি তাঁদের সবার নাম বাদ দিতে চাইছে। এভাবে চলতে থাকলে কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে জনরোষ আছড়ে পড়বে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ফরম-৭ জমা পড়লেই নাম বাদ চলে যাবে, এমনটা নয়। আসলে তৃণমূল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তালিকায় এখনও বহু অবৈধ ভোটার রয়ে গিয়েছে। তারা সেগুলি রাখতে চাইছে। কিন্তু তৃণমূলের এই ইচ্ছে পূরণ হবে না। ওরা ফরম-৭ বাধা দিয়েও অবৈধ ভোটারদের রক্ষা করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন অবৈধ ভোটারদের ঠিক খুঁজে বের করবে।