নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সাগর মেলা থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ হয়েছে। তার প্রায় ৪০ শতাংশই প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য। প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, প্যাকেট ইত্যাদি রয়েছে। অভিযোগ, পুণ্যার্থীরা এসব নিয়ে এসেছেন। তারপর যেখানে সেখানে ফেলেছেন। বর্জ্য সাফ করার পর সাগর ব্লকের প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জন নিষ্কাশন ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এই আবর্জনা দিয়ে সার হবে ও অন্যান্য কাজেও ব্যবহার হবে বলে জানা গিয়েছে। গতবার বর্জ্য সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১১১ মেট্রিক টন। এবার এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সাফাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ যেখানে ডাস্টবিন রাখা হয়েছিল তার আশপাশে এআই প্রযুক্তি থাকা সিসিটিভি বসানো হয়েছিল। ডাস্টবিন উপচে পড়লে তার ছবি তুলে কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ট পাঠিয়ে দিয়েছে ক্যামেরাগুলি। তারপর সাফাইকর্মী পাঠিয়ে সব সাফ করা হয়েছে।মেলা চলাকালীন এক হাজারের মতো অ্যালার্ট এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় দোকানদার থেকে সাধারণ মানুষের প্লাস্টিক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। দেওয়া হয়েছিল পরিবেশ বান্ধব ব্যাগ। কিন্তু অভিযোগ, ভিন রাজ্যে থেকে আসা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী প্লাস্টিক ব্যবহার করছেন। তাঁদের আটকানো যায়নি। তাই প্রতিদিন টন টন বর্জ্য তুলে সাগরের অস্থায়ী কঠিন বর্জ্য ইউনিটে জমা করেছেন সাফাই কর্মীরা।বিচের ধারে হোক বা পিলগ্রিম শেড, মেলা প্রাঙ্গণ বা রাস্তাঘাট প্রায় সর্বত্র প্লাস্টিক বর্জ্য দেখা গিয়েছে। কোথাও পুণ্যার্থীরা প্যাকেটে খাবার এনেছিলেন। খাওয়াদাওয়ার পর সেটা সেখানেই ফেলে চলে গিয়েছেন। কোথাও আবার জল খেয়ে যত্রতত্র প্লাস্টিক বোতল ফেলে দিয়েছেন তাঁরা। দিনের শেষে বিচেও এরকম বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখে গিয়েছে, যা পরে সাফাই করছেন কর্মীরা। তবে এবারে যেভাবে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল, তাতেই বর্জ্য সংগ্রহের রেকর্ড হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আধিকারিকরা বলছেন, কে কোথায় কী ব্যবহার করছে কী ফেলছে সেটা আটকানো ও নজরদারি করা অসম্ভব। তবে আশপাশ নোংরা হলেও সময়ে সবই সাফাই করা হয়েছে।