• পরিচারিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ স্বয়ং পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধেই, চাঞ্চল্য, কসবা থানাকে দু’বার মেল করলেও অসহযোগিতার অভিযোগ নির্যাতিতার
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নারী সুরক্ষা নিয়ে বারবার বাহিনীকে কড়া বার্তা দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা। কিন্তু সর্ষের মধ্যেই লুকিয়ে ভূত! ফাঁকা বাড়িতে পরিচারিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল খোদ কলকাতা পুলিশেরই এক কর্মীর বিরুদ্ধে। কসবা থানার এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করেছেন তাঁর গৃহ পরিচারিকা। অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রেও পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ তুললেন ওই পরিচারিকা। তাঁর দাবি, ‘কসবা থানাকে দু’বার ই-মেল করলেও তাদের তরফে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমার সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়নি।’কসবা থানা এলাকাতেই একটি ফ্ল্যাটে থাকেন ওই এএসআই। বছর খানেক সেই ফ্ল্যাটে কাজ করছেন সোনারপুরের বাসিন্দা এক তরুণী। তাঁর দাবি, গত ৩ জানুয়ারি ওই ফ্ল্যাটে কেউ ছিলেন না। সকালে তিনি কাজে গেলে আচমকাই তাঁকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেন ওই পুলিশকর্মী। নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চিৎকার করতে থাকেন তরুণী। তাঁর আরও অভিযোগ, এই ঘটনার কথা বাইরে কাউকে বললে তাঁকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন এএসআই। অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, একটি সেন্টার থেকে তাঁকে কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল। ঘটনার পরই সেই সেন্টারের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তরুণী। ঘটনাস্থলে আসেন ওই সেন্টারের মালিক। তরুণীর দাবি, ‘আমার অজান্তেই আমার ব্যাগের মধ্যে বিস্কুটের প্যাকেট ও খাবার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আমাকে চোর প্রমাণিত করার চেষ্টা করেন ওই পুলিশকর্মী।’ সেন্টারের মালিক বাড়িতে এলে অভিযুক্ত এএসআই তাঁকে জানান, বাড়ি থেকে জিনিসপত্র হাতানোর অভিযোগে তরুণীকে আর তিনি কাজে রাখতে চান না। ওই দিন বাড়ি ফিরেই কসবা থানায় ই-মেল মারফত গোটা বিষয়টি জানিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন তরুণী। কিন্তু, ৬ দিন কেটে গেলেও থানার তরফে কোনো ফোন আসেনি। ৯ জানুয়ারি ফের থানায় ই-মেল করেন তরুণী। তাতেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি অভিযোগকারিণীর। আদালতের নির্দেশ বলছে, নারীঘটিত কোনও অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশকে। কিন্তু, এক্ষেত্রে দু’বার ই-মেল মারফত অভিযোগপত্র দিলেও পুলিশি অসহযোগিতার শিকার কেন হতে হচ্ছে তরুণীকে? প্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ সাবার্বান ডিভিশন) বিদিশা কলিতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি। খোদ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে কসবা থানায় কোনও ই-মেল এসেছে কি না, তাও জানাননি তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)