• নাম বাদের আরজি দিলেই শুনানি, ফর্ম-৭ এর গেরোয় ‘কোণঠাসা’ কমিশন
    বর্তমান | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে ব্যবহৃত হয় ‘ফর্ম-৭’। তা জমা দেওয়া সময়সীমা সম্প্রতি বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্ত সামনে আসামাত্র শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক। কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি এই সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের মতো একটি গণতান্ত্রিক সংস্থার নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির দিকে আঙুল উঠেছে। যাবতীয় বিতর্কে রীতিমতো ‘কোণঠাসা’ হয়ে পড়ায় গা বাঁচাতে এবার নেওয়া হচ্ছে নয়া সিদ্ধান্ত—যে ব্যক্তি ‘ফর্ম-৭’ জমা দেবেন তাঁকেই প্রথম শুনানিতে ডাকা হবে। শনিবার এই খবর মিলেছে কমিশন সূত্রে।তালিকায় কোনো ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা এবং মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার জন্য ‘ফর্ম-৭’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আগের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি ছিল তা জমা দেওয়ার শেষ দিন। সেই সময়সীমা ৪ দিন বাড়িয়েছে কমিশন। আগামী কাল অর্থাৎ সোমবার পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে ‘ফর্ম-৭’। দিন কয়েক আগেই বাঁকুড়ার খাতড়ায় সিনেমা রোড এলাকা থেকে ‘ফর্ম-৭’ বোঝাই একটি গাড়ি আটক করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় দুই বিজেপি কর্মীকে আটক করে খাতড়া থানার পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছিল গেরুয়া শিবির। এতেই শুরু হয়ে যায় তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক। আর এসবের পর পরই হঠাৎ ‘ফর্ম-৭’ জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়ে দেয় কমিশন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে তাদের নিরপেক্ষতা। সেই কারণে ড্যামেজ কন্ট্রোলে এবার কমিশনের সিদ্ধান্ত, যে-কোনো ব্যক্তি যত খুশি ‘ফর্ম-৭’ জমা দিতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই প্রথমে শুনানির সম্মুখীন হতে হবে। শুনানিতে এসে উপযুক্ত নথি সহ প্রমাণ করতে হবে, কেন তিনি নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন!কমিশন সূত্রে আরও খবর, আবেদনকারী যদি সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে দিতে পারেন, একমাত্র তাহলেই যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁকে শুনানিতে ডাকা হবে। আর তখন তাঁকে পালটা নথি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে তিনি ভারতীয় ভোটার। যদি ওই ব্যক্তি সঠিক নথি দিতে না পারেন, তাহলে তৎক্ষণাৎ তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। কমিশনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, ‘ফর্ম-৭’ জমা করা ব্যক্তিকেই তাঁর আবেদনের সারবত্তা উপযুক্ত নথি সহকারে প্রমাণ করতে হবে। একজন বৈধ ভোটারের  নাম যাতে কোনোভাবেই তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা। কমিশন এও জানিয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৮৬৭টি ‘ফর্ম-৭’ জমা পড়েছিল। আর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকে শনিবার পর্যন্ত আরও ৪১ হাজার ৫৫২টি এমন আবেদন জমা পড়েছে। সমস্ত ফর্মই যাচাইয়ের কাজ চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)