• খোলা নেই ছাদ, রাখা সিলিন্ডারও! শর্ত অমান্য ২৩ রুফটপ রেস্তোরাঁর
    এই সময় | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: অগ্নিসুরক্ষা বিধির অন্যতম শর্ত ছিল, রেস্তোরাঁর উপরে কোনও আচ্ছাদন দেওয়া যাবে না, ছাদের বেশির ভাগ অংশ খোলা রাখতে হবে। আগুন লাগার ঝুঁকি এড়াতে কিংবা আগুন লাগলেও তা যাতে বড়সড় চেহারা না–নিতে পারে, সেটা নিশ্চিত করার কথা মাথায় রেখেই ওই শর্ত।

    কিন্তু কলকাতার ৮৩টি রুফটপ রেস্তোরাঁর মধ্যে ২৭টি রুফটপ রেস্তোরাঁই ওই শর্ত মানছে না বলে কলকাতা পুরসভা, পুলিশ ও দমকলের অফিসাররা সরেজমিনে গিয়ে দেখেছেন। তা ছাড়া, ওই রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে কোনওটি ছাদে আগুন জ্বালাচ্ছে, কোনওটি ছাদে গ্যাস সিলিন্ডার রাখছে। ওগুলোও রুফটপ রেস্তোরাঁয় নিষিদ্ধ বলে শর্ত দিয়েছিল অগ্নিসুরক্ষা কমিটি। কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সব রেস্তোরাঁকে নোটিস পাঠানো হবে। সূত্রের খবর, তার পরেও অগ্নিসুরক্ষা বিধি মেনে না–চললে রেস্তোরাঁগুলো ফের বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ করতে পারে অগ্নিসুরক্ষা কমিটি।

    কলকাতার রুফটপ রেস্তোরাঁগুলো অগ্নিসুরক্ষা বিধি মেনে চলছে কি না, তা দেখতে দমকল, পুরসভা ও কলকাতা পুলিশকে নিয়ে গঠিত অগ্নিসুরক্ষা কমিটির সদস্যদের একটি দল গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শহরের একাধিক রুফটপ রেস্তোরাঁয় আচমকা পরিদর্শনে গিয়েছিল টানা কয়েক দিন। পুরসভা সূত্রের খবর, সেই পরিদর্শনে অন্তত ২৭টি রুফটপ রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন রকম বিচ্যুতি ধরা পড়ে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রুফটপ রেস্তোরাঁগুলো চৌরঙ্গি, ক্যামাক স্ট্রিট, শেক্সপিয়র সরণি, বালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট এলাকায় এবং তারা অগ্নিসুরক্ষা বিধির বিভিন্ন শর্ত মেনে চলার তোয়াক্কা করছে না।

    পুরসভার একটি সূত্র জানাচ্ছে, অগ্নিসুরক্ষা বিধির শর্ত না–মানা রুফটপ রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে কমিটি ফের আলোচনায় বসতে পারে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ওই কমিটির প্রধান। পুরকর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, অগ্নিসুরক্ষা বিধির শর্ত না–মানা রেস্তোরাঁর মালিকদের একটি নোটিস পাঠানো হবে।

    যাবতীয় শর্ত মানার জন্য তাঁদের ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। তার পরেও যে সব রুফটপ রেস্তোরাঁ শর্ত মানবে না, সেগুলো ফের বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তবে শহরের বেশ কয়েকটি রুফটপ রেস্তোরাঁর মালিকদের বক্তব্য, ‘এমনিতে চার মাসেরও বেশি বন্ধ থাকার ফলে আমরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। সব শর্ত মানতে গেলে আমাদের পক্ষে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।’ তবে কলকাতা পুরসভার এক কর্তা পাল্টা বলছেন, ‘বিপদের ঝুঁকি আছে, এমন কিছু করা যাবে না।’

    ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল বড়বাজারের মেছুয়ার ফলপট্টির একটি হোটেলে আগুন লেগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাঁরা মারা যান। তার পরেই শহরের ৮৩ টি রুফটপ রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেয় কলকাতা পুরসভা। গত বছর পুজোর মুখে, ১৫ সেপ্টেম্বর ওই রুফটপ রেস্তোরাঁগুলো খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। রুফটপ রেস্তোরাঁর মালিকরা অগ্নিসুরক্ষা বিধির শর্তগুলো মেনে চলবেন বলে হলফনামা দিয়ে জানানোর পরে তবেই রেস্তোরাঁ খোলার অনুমতি পান।

  • Link to this news (এই সময়)