কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: দুদিনের বঙ্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার মালদায় জনসভার পর রবিতে সিঙ্গুরে যাবেন তিনি। মালদার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তনে'র ডাক দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি। ইতোমধ্যেই জানা গিয়েছে, হুগলির সিঙ্গুরে ৮৩০ কোটিরও বেশি ব্যয়ে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও ফ্ল্যাগ-অফ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলাগড়ে এক্সটেন্ডেড পোর্ট গেট সিস্টেমের শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে একটি ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (IWT) টার্মিনাল এবং একটি রোড ওভার ব্রিজ। প্রায় ৯০০ একর জুড়ে বলাগড়কে একটি আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যার পরিকল্পিত বার্ষিক ধারণক্ষমতা প্রায় ২.৭ মিলিয়ন টন (MTPA)। প্রকল্পের আওতায় দুটি কার্গো হ্যান্ডলিং জেটি নির্মিত হবে - একটি কনটেইনারাইজড কার্গোর জন্য এবং অন্যটি ড্রাই বাল্ক কার্গোর জন্য।
বলাগড় প্রকল্পের মাধ্যমে ঘনবসতিপূর্ণ নগর করিডোর থেকে ভারী পণ্য পরিবহণ সরিয়ে কার্গো পরিবহণের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কলকাতা শহরে যানজট ও দূষণ কমবে, সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। উন্নত মাল্টিমোডাল সংযোগ ও লজিস্টিক দক্ষতার ফলে আঞ্চলিক শিল্প, এমএসএমই এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদকরা কম খরচে বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ পাবেন। এই প্রকল্প থেকে লজিস্টিকস, টার্মিনাল অপারেশন, পরিবহণ পরিষেবা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় মানুষের উপকারে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক ক্যাটামারানও উদ্বোধন করবেন। এটি ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্টের জন্য কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড কর্তৃক দেশীয়ভাবে নির্মিত ৬টি ইলেকট্রিক ক্যাটামারানের মধ্যে একটি। ৫০ জন যাত্রী বহনক্ষম এই হাইব্রিড ইলেকট্রিক অ্যালুমিনিয়াম ক্যাটামারানটি উন্নত ইলেকট্রিক প্রপালশন সিস্টেম ও লিথিয়াম-টাইটানেট ব্যাটারি প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক শূন্য-নিঃসরণ মোডে যেমন চলতে সক্ষম, তেমনি দীর্ঘ সময়ের জন্য হাইব্রিড মোডেও চলতে পারে। এই জাহাজটি হুগলি নদী বরাবর নগর নদী পরিবহণ, ইকো-ট্যুরিজম এবং লাস্ট-মাইল যাত্রী সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জয়রামবাটি - বরগোপীনাথপুর - ময়নাপুর নতুন রেললাইনেরও উদ্বোধন করবেন। এই রেলপথটি তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর নতুন রেললাইন প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন রেললাইনের পাশাপাশি ময়নাপুর থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত একটি নতুন ট্রেন পরিষেবাও (বরগোপীনাথপুরে যাত্রাবিরতি সহ) ফ্ল্যাগ-অফ করা হবে। এর ফলে বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দারা সরাসরি রেল সংযোগ পাবেন, যা দৈনন্দিন যাত্রী, ছাত্রছাত্রী ও তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতকে আরও সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক করবে।
প্রধানমন্ত্রী তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনেরও ফ্ল্যাগ-অফ করবেন—
১) কলকাতা (হাওড়া) – আনন্দ বিহার টার্মিনাল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস
২) কলকাতা (শিয়ালদহ) – বারাণসী অমৃত ভারত এক্সপ্রেস
৩) কলকাতা (সাঁতরাগাছি) – তাম্বরম অমৃত ভারত এক্সপ্রেস