• মোদীর সফরে আশা-নিরাশার দোলাচলে সিঙ্গুরের বাসিন্দারা, রেকর্ড ভিড়ের সম্ভাবনা
    এই সময় | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • প্রদীপ চক্রবর্তী, সিঙ্গুর

    আজ রবিবার হুগলির সিঙ্গুরে সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সভা থেকে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সিঙ্গুরের গোপালনগরে সভাস্থল এবং তার আশপাশের এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। সভামঞ্চের দখল নিয়েছেন এসপিজি'র আধিকারিকরা। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার দুপুর ১২টা নাগাদ সিঙ্গুরে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নেমে সভাস্থলে আসবেন মোদী।

    প্রধানমন্ত্রীর সভাকে সফল করতে ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরে চলে এসেছে বিজেপির শীর্ষ নেতারা। সিঙ্গুরের একটি হোটেলে উঠেছেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা তথা বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডে। কেউ কেউ আবার থাকছেন অস্থায়ী তাঁবুতে। এ দিন দিন সকালে কামারকুণ্ডু থেকে সভাস্থল পর্যন্ত বাইক মিছিল করে বিজেপি। সিঙ্গুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সিঙ্গুর-সহ গোটা রাজ্যের মানুষ।

    সুকান্ত মজুমদারের মতো বিজেপির প্রথম সারির নেতারা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, টাটাদের ছেড়ে যাওয়া ন্যানো কারখানার জমিতে সভা করে বিধানসভা ভোটের আগে শিল্পের বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে টাটাদের ফিরিয়ে আনা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। যদিও সিঙ্গুরের সাধারণ মানুষরা অবশ্য বিজেপি নেতাদের কথায় খুব একটা আশ্বস্ত হচ্ছে না।

    শনিবার সিঙ্গুরে মোদীর সভামঞ্চ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে দেখা মিলল জয়মোল্লার বাসিন্দা তাপস পাখিরার। স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক তাপস বললেন, 'বিজেপি নেতারা বড় বড় কথা বললেও এখানে আর কোনও দিন শিল্প হবে, এমনটা সিঙ্গুরের কোনও মানুষ বিশ্বাস করে বলে আমার অন্তত মনে হয় না।'

    শিল্পের জন্য সিঙ্গুরে জমি দিয়েছিলেন আলামিন মল্লিকের বাবা। সেই জমিতে বসেই এ দিন আলামিন জানালেন, 'বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যে ভাবে শিল্প স্থাপন করে বেকার ছেলেমেয়েদের চাকরি দিতে চেয়েছিলেন, সেটা এখন অতীত। এখানে আর কেউ শিল্প করতে আসবে না। ভোটের আগে বাজার গরম করতেই মোদী সিঙ্গুরে আসছেন। এতে সিঙ্গুরের মানুষের কোনও উপকার হবে না' জয়মোল্লার বাসিন্দা জিয়ারুল হকের মুখেও হতাশার সুর। এক সময় তিনিও শিল্পের জন্য জমি দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই জমি ফিরিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কাগজ পেলেও, এখনও জমি বুঝে পাননি। তিনি বলেন, 'টাটারা যখন পারেনি, তখন আর কেউ এখানে শিল্প করতে আসবে না।'

    বিজেপির রাজ্য নেতা স্বপন পাল বলেন, 'সিঙ্গুরে কৃষি ও শিল্প কোনওটাই না হওয়ায়, সিঙ্গুরবাসী প্রতারিত। তাই, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে, শুধু সিঙ্গুর নয়, গোটা রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আসবে।' সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা ছিলেন মহাদেব দাস। তখন জমি আন্দোলন করলেও এখনও তিনি শিল্পের পক্ষে সওয়াল করছেন।

    মহাদেব বলেন, 'সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, জমি চাষযোগ্য করে কৃষকদের ফেরত দিতে হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কৃষকরা তাঁদের জমি বুঝে পাননি। তাই, আমরা বন্ধ্যা জমি পুনরুদ্ধার কমিটি তৈরি করেছি। বিভিন্ন প্রশাসনিক মহলে চিঠিও দিয়েছি। কোনও শিল্পপতি সরাসরি এসে যদি কৃষকদের থেকে জমি কিনে শিল্প করতে চান, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।' সিঙ্গুর কৃষিজমি আন্দোলনের নেতা, বর্তমানে গোপালনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সভাপতি অমিয় ধাড়া বলেন, 'আমরা শিল্পের বিরোধী নই। জোর করে, লাঠি মেরে, জমি দখল করার বিরোধিতা করেছি।'

    সিঙ্গুরে জমি আন্দোলনের অন্যতম নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, 'তৃণমূল শিল্পবিরোধী নয়। কিন্তু শিল্পের নামে জোর করে জমি কেড়ে নেওয়ার বিরোধী। সুপ্রিম কোর্ট কৃষকের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)