অয়ন ঘোষাল: ব্রিগেডে সভা হচ্ছে না হুমায়ূন কবীরের। তার পরিবর্তে ৩১ জানুয়ারি বেলডাঙায় সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জকারী ও জনতা উন্নয়ন পার্টি প্রধান হুমায়ূন কবীর। কোথায় ব্রিগেড মাঠের বিশাল এলাকা, আর কোথায় বেলডাঙায় সেই মার্বেল দোকানের পাশের সেই মেঠো ধানজমি! তবে হুমায়ূন কবীর বলছেন বেলডাঙাতেই তিনি ১০ লাখ মানুষ জড়ো করবেন। ওই দিনই তিনি শাসকদলের মৃত্যুঘণ্টা বাজাবেন।
বিগ্রেডে সভার অনুমতি দেয়নি সেনা। ওই অনুমতি বাতিলের পেছনে বিজেপি ও তৃণমূলের ষড়যন্ত্র দেখছেন হুমায়ূন। ব্রিগেডের পরিবর্তে শহীদ মিনারে সভা করতে বলা হয়েছে। সেখানকার ছোট মাঠে সভা করতে নারাজ হুমায়ূন। তার পরিবর্তে নিজের হোম টার্ফ বেলডাঙাতেই করবেন তাঁর সভা। হুমায়ূন বলেন, আমি যে মাঠে জনতা উন্নয়ন পার্টির জন্ম দিয়েছিলাম সেখানে আগামী শনিবার বেলা ১ টায় আমি ওই সভা করব। ওখানেই তৃণমূলের এবং বিজেপির মৃত্যুঘণ্টা বাজাব। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি হুমায়ুন ঘোষণা করলেন তা হল, ৩১ জানুয়ারির পর তাঁর 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'-র জোটের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। পরের দিন তিনি একাই ১৮২ টা আসনে একতরফা প্রার্থী দিয়ে দেবেন।
বেলডাঙায় সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে হুমায়ূন বলেন, আমি মুর্শিদাবাদ জেলায় একজন জন প্রতিনিধি হিসেবে গত দুদিনের ঘটনার নিন্দা করছি। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি নিজে একাধিকবার দাবিদাওয়া আদায়ে একাধিকবার আন্দোলন এবং অবরোধ করেছি। কিন্তু চেষ্টা করেছি মানুষের যেন অসুবিধা না হয়। সেদিন লোকজন কেউ কেউ মাদক সেবন করে পথ অবরোধ করতে নেমেছিল। আমি কোনোদিন দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করিনি। কোনোদিন করব না।
উল্লেখ্য, ব্যাকফুটে চলে যাওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন জনতা উন্নয়ন পার্টি-র চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির। বাবরি মসজিদের শিলান্যাস, ৬ ডিসেম্বর। চাইলেন সৌদি আরবের ধর্মগুরু। আসলে পেয়েছিলেন পাঁশকুড়ার দুই ইমামকে।
২২ ডিসেম্বর। জনতা উন্নয়ন পার্টির জন্ম হল বেলডাঙার মাঠে। বালিগঞ্জ বিধানসভা আসনে প্রার্থী করলেন নিশা চ্যাটার্জিকে। আবার ঠকলেন। নিশার সোশ্যাল মিডিয়ায় মদ্যপান থেকে অঙ্গভঙ্গি। তৃণমূলের স্থানীয় এক নেতাকে দোষারোপ করে খারিজ করলেন নিশার প্রার্থীপদ।
১৩ ডিসেম্বর। ঘোষণা করলেন হায়দরাবাদ থেকে নিয়ে আসছেন তাগড়াই ৮ বাউন্সার। আসলে কেউ তাকে ঠকিয়ে গছিয়ে দিয়েছিল কাঁচারাপাড়ার লোকাল বাউন্সার।
হুমায়ূন বলেছিলেন হেলিকপ্টার ভাড়া নেবেন ১ বছরের জন্য। গাড়ি বুলেট প্রুফ নয়। সড়কপথে যাতায়াত করলে তার প্রাণের ঝুঁকি থাকছে। কোথায় সেই হেলিকপ্টার? এখনও যাতায়াত করছেন নিজের ওই বিধায়ক স্টিকার লাগানো গাড়িতেই।
১৮ জানুয়ারি ২০২৬। এবার হুমায়ূন কবির ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে ব্যাকফুটে চলে গেলেন। কোথায় ব্রিগেড আর কোথায় বেলডাঙার ওই মার্বেলের দোকানের পাশের মেঠো ধান জমি? হুমায়ূন মানেই কি বড় বড় ডায়লগ আর অল্প অল্প ব্যাকফুট? ইতিমধ্যেই জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে। ৩১ জানুয়ারি শনিবার বেলডাঙার ওই মাঠেই আরেকটি জনসভা। এবারও সেই ১০ লাখি গল্প। আগেরবার মেরেকেটে হাজার ২৫ লোক হয়েছিল বলে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। এবার কত লোক শেষ পর্যন্ত টানতে পারবেন হুমায়ূন? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।