• বিধানসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রামে বিরাট জয় তৃণমূলের, সমবায়ের ভোটে ১২ আসনেই ধুয়ে মুছে সাফ বিজেপি
    ২৪ ঘন্টা | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • কিরণ মান্না: নন্দীগ্রামের আমদাবাদ সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে বিপুল সাফল্য পেল তৃণমূল কংগ্রেস। আমদাবাদ যোগেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয়ে রবিবার সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ফলাফলের শেষে এমন অভূতপূর্ব রেজাল্ট তৃণমূলের। সমবায়ের মোট ১২টি আসনের মধ্যে ১২টিতেই জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা। শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে এমন ফলাফলে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

    সমবায়ের  প্রায় এক হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)—তিন দলই সবকটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তবে ফলাফলে বিজেপি ও সিপিআই(এম) একটিও আসন জয় করতে পারেনি।

    নন্দীগ্রামের মতো শুভেন্দু অধিকারীর শক্তপোক্ত ঘাঁটিতে দীর্ঘদিন পর এমন সাড়া জাগানো সাফল্যে তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে ব্যাপক উৎসাহ ও জয়োল্লাস দেখা যায়। বিজয় নিশ্চিত হতেই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

    আমদাবাদ ১ নম্বর অঞ্চল সভাপতি বলেন, ২০১১ সাল থেকে আমরা এখানে কখনও হারিনি। আমাদের সমর্থকরা দলের জন্য অত্যন্ত ভালো কর্মী। তাদের জন্যই আমরা এখানে জিততে পারি। এটা আমাদের কর্মীদের জয়। 

    দলের অন্য এক নেতা বলেন, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রাম থেকে বিতাড়িত হবেন শুভেন্দু। এলাকার ময়ালে একটি পঞ্চায়েত অফিস উদ্বোধন হয়েছে। সেখানে ডাকা হয়নি শুভেন্দুকে। এর অর্থ হল, শুভেন্দু অধিকারীকে বর্জন করছে নন্দীগ্রাম।

    উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর  পটাসপুরে পটাশপুরে—খড়িকা পাটনা নেহেরু সমবায়ে সব আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় ঘাসফুল শিবিরের। এই ভোটে আসনেও প্রার্থী দিতে পারেনি বিজেপি বা বিরোধী শিবিরের অন্য কোনও দল। ফলে ভোটগ্রহণ ছাড়াই পূর্ব ঘোষণা মতোই সব আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত হয়। এ জয়কে কেন্দ্র করে তৃণমূল শিবিরে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

    সবুজ আবিরে রাঙিয়ে তোলা হয় চারদিক। বিজয় মিছিল, ঢাক-ঢোল, মিষ্টিমুখ—সব মিলিয়ে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। জয়ী প্রার্থীদের ফুলের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান দলেরই কর্মী-সমর্থকেরা।

    গত ১৮ নভেম্বর কাঁথিতে সমবায় নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে তৃণমূল। কোনও প্রার্থীই দিতে পারেনি বিজেপি। শুভেন্দুর গড়ে এই অবস্থা। আগামী বছরই  বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যে এখন চলছে এসআইআর। এই অবস্থায় মনবল অনেকটাই বাড়িয়ে নিল ঘাসফুল শিবির।

    সেপ্টেম্বর মাসে কাঁথির বাড়চুনফলি কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচনেও এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে এই জয় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    কাঁথি বিধানসভা বিজেপির দখলে। তার মধ্যেই এই বিধানসভার একের পর এক সমবায়ের নির্বাচনে ফুটছে ঘাসফুল।  সেই তালিকায় নাম উঠল বাড়চুনফলি কৃষি সমবায় সমিতিরও।  ৫৩ আসনের মধ্যে ৩৮ আসনেই জিতল  তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১৫ আসন।

    এর আগে, হুগলি সমবায় সমিতির ভোটে ৯ আসনে নয়টিতেই জিতেছিল তৃণমূল। খাতাই খুলতে পারেনি বিজেপি। পাইকবাড় সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তৃণমূলই। ৭  আসনে অবশ্য জিতেছে বিজেপিও। ৪ গিয়েছে নির্দলদের দখলে। বাকি ৩৩ আসনেই ফুটেছে খাসফুল।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)