• মহেশতলায় দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার, মিলেছে ঘুমের ওষুধও, নেপথ্যে কারণ কি অনটন?
    এই সময় | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: মহেশতলায় স্বামী-স্ত্রীর রহস্যমৃত্যু! মৃতদের নাম তন্ময় দে (৫২) ও রুমা রক্ষিত (৪৭)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছেন ওই দম্পতি। নেপথ্যে কী কারণ, তা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কিছু দিন ধরেই ওই দম্পতি চরম আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন। ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে আর্থিক দুশ্চিন্তায় তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছেছেন কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার মহেশতলা পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়ি ফুট এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, কুড়ি ফুট এলাকার একটি আবাসনের তিনতলায় ভাড়া থাকতেন তন্ময় ও রুমা। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ওই দম্পতির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ ফোনে না পাওয়ায় সন্দেহ হয়। ফোনে না পেয়ে তাঁরা আসেন ফ্ল্যাটে। দেখা যায় দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করেও সাড়া মেলেনি। লাগাতার দরজায় ধাক্কা দিয়েও সাড়াশব্দ মেলেনি। খবর যায় মহেশতলা জিঞ্জিরা ফাঁড়িতে। মহেশতলা থানার পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। পুলিশ দরজা ভাঙলে দেখা যায়, ভিতরে স্বামী-স্ত্রীর দেহ পড়ে রয়েছে। শোওয়ার ঘরে খাটের উপরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে দু'টি দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের পাশেই ছড়িয়ে পড়ে ছিল ঘুমের ওষুধের একাধিক খালি বাক্স। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে বেহালা বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ওই দম্পতিকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তন্ময় ছোটখাটো কাজ করতেন। সেই কাজ চলে যাওয়ার পরেই কি তাঁদের অনটন চরমে পৌঁছেছিল? সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

    ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মহেশতলা থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অন্য সদস্যদের বয়ান রেকর্ড করা হবে। আশপাশের বাসিন্দাদেরও বয়ান নেওয়া হবে। এই ঘটনার আগে কোনও রকম কিছু অস্বাভাবিক আচরণ ছিল কি না ওই দম্পতির, বা কারও সঙ্গে সে বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করেছিলেন কি না-সেই সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)