‘কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে আটকে... সাহায্য চাই’! অনলাইন বন্ধুর ফোন, প্রতারণার নতুন ছকে টাকা পাঠিয়ে সর্বস্বান্ত
বর্তমান | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সোশ্যাল মিডিয়া অথবা ডেটিং অ্যাপে বন্ধুত্ব। তারপর দীর্ঘ কথোপকথন। কেউ নাকি থাকেন আমেরিকায়, কেউ আবার লন্ডনে। এ রাজ্যের একাধিক তরুণ-তরুণী এহেন ‘অনলাইন বন্ধু’র কথা বিশ্বাসও করে ফেলছেন! বিশ্বাসযোগ্যতা এমন জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে যে কেউ কেউ নাকি আমেরিকা, লন্ডন থেকে সোজা চলে আসছেন ভারতে। কিন্তু দিল্লি বা মুম্বই এয়ারপোর্টে এসে প্রত্যেকেই নাকি সমস্যায় পড়ছেন! সবার একটাই সমস্যা—কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স! কে সাহায্য করবেন? এয়ারপোর্ট থেকে ফোন পেয়ে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন আগন্তুকের এ রাজ্যের ‘অনলাইন বন্ধু বা বান্ধবী’। বাস্তবে কেউই আসছে না! আসলে এ হল প্রতারণার নয়া ছক! ইতিমধ্যে বিধাননগরে দু’টি অভিযোগও দায়ের হয়েছে। নিউটাউনের এক যুবক এবং লেকটাউনের এক যুবতী এই কায়দায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন।নিউটাউনের যুবকের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় একজনের পরিচয় হয়। অপরিচিত সেই ব্যক্তি তাঁকে জানায়, সে আমেরিকায় থাকে। পেশায় চিকিৎসক। তারপর দু’জনের মধ্যে কথোপকথন বাড়তে থাকে। একদিন ওই ব্যক্তি নিউটাউনের যুবককে জানায়, সে ভারতে ছুটি কাটাতে আসছে। তার নামে একটি ভুয়ো ই-ভিসা পাঠিয়েও দেয়। গত ৫ জানুয়ারি নিউটাউনের যুবক একটি ফোন পান। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, মুম্বই এয়ারপোর্টের কাস্টমস অফিস থেকে বলছি। ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ’ সংক্রান্ত কারণে আপনার বন্ধুর কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স হয়নি। তার জন্য টাকা পেমেন্ট করতে হবে। বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে নিউটাউনের যুবক কয়েক দফায় ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়েও ফেলেন। কিন্তু কেউই ভারতে আসেনি। নিউটাউনের যুবক পরে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছেন। গত ১০ জানুয়ারি নিউটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।ডেটিং অ্যাপে লেকটাউনের এক যুবতীর সঙ্গে এক যুবকের আলাপ হয়েছিল। সেই যুবক নাকি ইউকে-তে থাকে। এরপর অনলাইনে দু’জনের সম্পর্ক গড়াতে থাকে। সেও একইভাবে ইউকে থেকে ভারতে আসার কথা জানিয়েছিল। কয়েকদিন আগে ওই যুবতীও একটি ফোন পান। ফোনে তাঁকে জানানো হয়, দিল্লি এয়ারপোর্টের কাস্টমস অফিস থেকে ফোনটি এসেছে। ‘বন্ধু’র কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য তাঁর কাছেও টাকা চাওয়া হয়। ওই যুবতী ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে আরও টাকা চাইতেই তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি দ্বিতীয়বার টাকা না দিয়ে ১৫ জানুয়ারি লেকটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘আপনার নামে পার্সেল এসেছে। তাতে নিষিদ্ধ জিনিসপত্র এসেছে—এমন ভয় দেখিয়ে প্রতারকরা কাস্টমস অফিসার সেজে প্রতারণা করত। কিন্তু বন্ধুত্ব পাতিয়ে বিদেশ থেকে ফেরার সময় কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের নামে প্রতারণা নতুন। তাই এই ধরনের ফোন এলে সতর্ক হতে হবে। না হলেই বিপদ।’