• আয় বাড়লেও বিপুল আর্থিক বোঝা, বৈঠক ডাকলেন মেয়র
    বর্তমান | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আয়বৃদ্ধি হলেও খরচ বেড়েছে বহু গুণ। সম্পত্তি কর খাতে যে অর্থ পুর-কোষাগারে ঢুকছে, তা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত হচ্ছে না। এর উপর রয়েছে বিপুল আর্থিক বোঝা। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে পুরসভার নিজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি করা যায়, কোথায় কোথায় বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন—সেসব নিয়ে পর্যালোচনা করতে বৈঠক ডাকলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২১ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভায় বৈঠকটি হবে। সেখানে সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগের সবক’টি ইউনিটের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের ডাকা হয়েছে। কারণ, কর আদায় বাড়াতে না পারলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে টাকা খরচে সমস্যা তৈরি হবে। পাশাপাশি, কর্মীদের বকেয়া গ্র্যাচুয়িটির টাকা দিতেও জটিলতা থেকে যাবে।পুরসভার রাজস্ব বিভাগ সূত্রে খবর, চলতি অর্থবর্ষে (১ এপ্রিল, ২০২৫-১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) এখনও পর্যন্ত সম্পত্তি কর খাতে আদায় হয়েছে ১,০৭৪ কোটি ২১ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। গত বছর এই সময়কালে আদায় হয়েছিল ১০৪৪ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার বেশি। অর্থাৎ ২৯ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার বেশি আদায় হয়েছে। সার্বিকভাবে এই আয়বৃদ্ধি হলেও অঞ্চলভিত্তিক (ইউনিট) হিসেবে রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক নয়।   পুরসভার সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগ মূলত আটটি ভাগে বিভক্ত। তার মধ্যে জোকা শাখায় গতবারের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি কর আদায় হয়েছে। আবার গার্ডেনরিচ ইউনিটে তার উলটো। গতবারের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ সম্পত্তি কর আদায় কমেছে সেখানে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা ইউনিটেও আয় সন্তোষজনক নয়। যদিও এক পুরকর্তা বলেন, ‘২০২৪ এর ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ৯.৩২ শতাংশ আয় বেড়েছে পুরসভার।’তবে পুরসভার ঘাড়ে যে বিপুল আর্থিক বোঝা রয়েছে, সেই তুলনায় এই আয়বৃদ্ধি পর্যাপ্ত নয় বলেও স্বীকার করছেন আধিকারিকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, গত বছর (৩১ মার্চ, ২০২৫ পর্যন্ত হিসেব) সার্বিকভাবে পুরসভার আদায় হয়েছিল ১২৫৮ কোটি কোটি টাকার বেশি। চলতি বছর সেই আদায় ছাড়িয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতি মাসে স্থায়ী, অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন, বিভিন্ন ভাতা, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ইত্যাদি খাতে খরচ হয় ১২০ থেকে ১২২ কোটি টাকা। বছরের হিসেব ধরলে তা ১৪০০ কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তার উপর গত প্রায় এক বছর ধরে অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচুয়িটির টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ বিল সহ দৈনন্দিন খরচ চালাতেও বিপুল টাকা প্রয়োজন হয়। সেই সঙ্গে আছে ঠিকাদারদের কাছে বকেয়া ৭০০ কোটির বেশি। এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের এই পরিমাণ পর্যাপ্ত হওয়ার কথাও নয়। তাই এখনও মিউটেশনের আওতায় না আসা সম্পত্তি চিহ্নিত করে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর উপায় নিয়েই মূলত রিভিউ বৈঠকে আলোচনা হবে বলে খবর।
  • Link to this news (বর্তমান)