একান্ন বছর বয়সেও ফুসফুস যেন হাপর, ২১ কিমি ম্যারাথনে দ্বিতীয় স্থান হাওড়ার দীপকের
বর্তমান | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রোজ রাত সাড়ে তিনটেয় ঘুম থেকে উঠে মাঠে দৌড়তে যান। তারপর বাড়ি ফিরে আটটার মধ্যে যান অফিস। সারাদিন পিওনের কাজ। সন্ধ্যায় ফিরে ফের দৌড়। এই কঠিন অনুশীলনের ফল পেলেন দীপক সিনহা। ৫১ বছর বয়সে ম্যারাথনে নেমে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেন। ৩০ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রতিযোগীর সঙ্গে ছুটেছেন ২১ কিলোমিটার। বয়স যে কেবল ক্যালেন্ডারের একটি হিসেব, তা বুড়োদের তো বটেই ছোটদেরও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন দীপকবাবু হাওড়ার দাসনগরের দীপক সিনহা। তিনি নয়া প্রজন্মের কাছে এখন অনুপ্রেরণার অন্য নাম। ২১ ডিসেম্বর রাজস্থানের জয়সলমিরে বিএসএফ’য়ের উদ্যোগে হয় ‘ওয়ারিয়র্স অব ম্যারাথন’ প্রতিযোগিতা। সেখানে গোটা দেশের দৌড়বিদরা অংশ নিয়েছিলেন। সেই প্রতিযোগিতায় পঞ্চাশোর্ধ্ব বিভাগে দীপক দ্বিতীয় হয়েছেন। বর্তমানে সাঁকরাইল ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে পিয়ন পদে কর্মরত তিনি। চাকরিতে কাজের চাপ আছে। তবে তা অনুশীলনের ছন্দে ছেদ ফেলতে পারেনি। রাত তিনটেয় ওঠা। দিনভর অনুশীলন ও অফিসের কাজ। আর রাত আটটার মধ্যে ঘুমোতে যাওয়া। এই নিয়মেই বাঁধা তাঁর জীবন। ছোট থেকেই খেলাধূলার প্রতি গভীর টান ছিল। সপ্তম শ্রেণিতে ফুটবল খেলা শুরু। কলকাতার ক্লাবেও খেলেছেন। ফুটবলার হিসেবে বড় জায়গায় যেতে মাধ্যমিকের পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন। কিন্তু অভাবের সংসারে সে স্বপ্নে দাঁড়ি পড়ে। সরকারি চাকরি পাওয়ার পর একটু সচ্ছলতা ফেরে। তারপর দৌড়ের অনুশীলন শুরু। খেলার অপূর্ণ স্বপ্ন নতুন প্রাণও পেল পুরস্কার পেয়ে।দীপকবাবুর পরিবারে আছেন মা, স্ত্রী ও পুত্র। স্ত্রীর সমর্থনই এগিয়ে চলার প্রধান শক্তি-জানান তিনি। এরপর মাস্টার্স গেমসে জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন লক্ষ্য তাঁর। পাশাপাশি ৪২ কিলোমিটার পূর্ণ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ৫১ বছরের দীপকবাবুর সাফল্যে খুশি সাঁকরাইলের বিডিও কামরুল মুনির। তিনি বলেন, ‘এই বয়সেও দীপকবাবুর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা অনুকরণ করার মতো।’ সবমিলিয়ে পাড়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন দীপকবাবু। নিয়মিত শরীরচর্চা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন ওই এলাকার কিশোর-যুবকদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। দীপক সিনহা বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলাই পারে সুস্থ শরীর ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে।’ তাঁর অক্লান্ত দৌড় উৎসাহের একটি ট্র্যাক তৈরি করে দিয়েছে। সে ট্র্যাক পথ দেখাচ্ছে অনেককে। মাঠে নেমে শরীরচর্চায় উৎসাহ পাচ্ছে প্রবীণ ও নবীন প্রজন্ম। নিজস্ব চিত্র