• বিহারের পাচারের আগেই কলকাতা স্টেশন থেকে ধৃত দুই মহিলা দালাল
    বর্তমান | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নাচের অনুষ্ঠানের নাম করে ক্যানিং সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গা থেকে কিশোরীদের নিয়ে এসে বিহারে পাচারের উদ্দেশ্য ছিল। তার আগেই কলকাতা স্টেশন থেকে পাচারকারী সন্দেহে মমতা মাকাল ও রেশমি নস্কর নামের দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে চিৎপুর জিআরপি। উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ কিশোরীকেও। আর্থিক দিক পিছিয়ে থাকা পরিবারের নাবালিকাদের বিহারে নাচের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার নাম করে দেহ ব্যবসায় নামানোর ফন্দি ছিল ধৃতদের, এমনটাই অভিযোগ। তাদের জেরা করে এভাবে কতজনকে তারা বিহারে বা অন্যত্র নিয়ে গিয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে আরপিএফের কাছে খবর আসে, বিহারের সিওয়ানে কয়েকজন নাবালিকাকে পাচার করা হচ্ছে। তাদের নিয়ে আসা হয়েছে কলকাতা স্টেশনে। সেখান থেকে ট্রেনে করে বিহারে নিয়ে যাওয়া হবে। ওই কিশোরীদের সঙ্গে রয়েছে দুই মহিলা দালাল। তার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে আরপিএফ ও চিৎপুর জিআরপির অফিসাররা তল্লাশি চালিয়ে দুই মহিলাকে আটক করেন। উদ্ধার হয় পাঁচ কিশোরীকে। দুই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তাদের বাড়ি হরিদেবপুর এলাকায়। তারা বিহারের বিভিন্ন বিয়ের পার্টিতে নাচের জন্য কিশোরীদের নিয়ে যায়। অনেকদিন ধরেই তারা এই কাজ করছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং, বাসন্তী সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের নিয়ে আসে তারা। বিনিময়ে এক-একটি পরিবারকে দেড় থেকে দু’ হাজার টাকা করে দেয়। এমনটাই জানিয়েছে, এক কিশোরীর পরিবার। এরপরই মানব পাচারের অভিযোগে মমতা ও রেশমিকে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তে জানা গিয়েছে, এর পিছনে একটি আন্তঃরাজ্য চক্র রয়েছে। যারা কলকাতার এজেন্টদের  সঙ্গে যোগাযোগ করে। এখান থেকে কিশোরীদের বিহারে নিয়ে গিয়ে সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের পাশাপাশি তাদের দেহ ব্যবসাতেও ব্যবহার করে তারা। কেউ রাজি না হলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে যাওয়া কিশোরীদের সিংহভাগই আর নিজের বাড়িতে ফিরতে পারে না। অনুষ্ঠান শেষে তাদের বিভিন্ন হোটেল বা নিষিদ্ধপল্লিতে বিক্রি করে দেয় সিন্ডিকেটের মাথারা।মূলত আর্থিক দিক থেকে দুর্বল পরিবারের কিশোরীদের কাজের টোপ দিয়ে এভাবে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। অল্প কিছু টাকা পরিবারের সদস্যদের হাতে দিয়ে বলা হয়, তাঁদের মেয়ে বিহারে বিভিন্ন নাচের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত। একাধিক কাজ থাকায় বাড়ি ফিরতে পারছে না। এই দুই মহিলার হাত ধরে এভাবে কতজন কিশোরী বিহারে গিয়ে আর ফেরেনি, তাদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছেন রেল পুলিশের অফিসাররা।
  • Link to this news (বর্তমান)